পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের মাইকিং তাড়াশে থামছেই না পুকুর খনন
০৪ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৫৫ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের মাইকিং তাড়াশে থামছেই না পুকুর খনন
    ২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:৩৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারী সকল নিয়ম নীতি উপক্ষো করে চলছে তিন ফসলী জমিতে গণহারে পুকুর খননের মহোৎসব। 
    এদিকে পুকুর খনন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  উপজেলার আট টি ইউনিয়নে মাইকিং করা হলেও এতে কেউ সাড়া দিচ্ছেন না। স্থানীয়রা আরো জানান. উপরোন্ত প্রভাবশালী এতই বেপরোয়া যে, তারা আইন না মেনে অবৈধভাবে দিন রাত্রি সমান্তরাল ভাবে পুকুর খনন করেই চলছেন । 
    সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় ভ‚মি ব্যবহার নীতিমালা ২০০১ উপেক্ষা করে খাদ্য শষ্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল অধূষ্যিত তাড়াশে গত ৫-৭ বছরে ফসলী জমিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর অগ্রহায়ন মাস থেকে উপজেলার বিভিন্ন ফসলী মাঠে ১৫০-২০০ পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে। আর  ফসলীর জমির অবৈধভাবে শ্রেণী পরিবর্তন করে এ সকল ফসলী মাঠে পুকুর খননকালে তা বন্ধ করতে  উপজেলা প্রশাসন ও ভ‚মি অফিসগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযানের পরেই  ওই প্রভাবশালীরা আবারও পুকুর খনন কাজে নেমে পড়েন।  
    কাউরাইল গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, তার  গ্রামের আশে পাশে ১০-১৫টির মত পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে। আর  পুরো উপজেলায় পুকুর খনন কাজে কমপক্ষে ২০০-২৫০ মাটি কাটার মেশিন এক্সেভেটর কাজ করলেও উপজেলা প্রশাসনের মাইকিং করার কোন প্রভাবই পড়েনি। 
    তবে এ প্রসঙ্গে তাড়াশ নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জাহান জানান, জনসচেতনা বাড়িয়ে সকলকে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন বন্ধে  সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।    
    স্থানীয় একাধিক কৃষকেরা বলেন, এদিকে ফসল উৎপাদনে কৃষক বেশী শ্রম ব্যয় করেও কাংখিত লাভ না হওয়াতে ঝামেলা বিহীন অর্থ উপার্জনের জন্য তাড়াশ উপজেলায় পুকুর খনন করছেন। কৃষকরা নিজের জমিতেই পুকুর খনন করে বাৎসরিক মোটা অংকের লীজমানিতে এ সকল পুকুর মৎস্যচাষীদের কাছে লীজ দিচ্ছেন। অথচ গণহারে সরকারী নিয়ম নীতি  উপেক্ষা করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে  প্রতি বছর পুকুর খননের মাধ্যমে তাড়াশ উপজেলায় খাদ্য শষ্য উৎপাদন কমে গেলে এতে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। 
    আবার  প্রভাবশালীরা সরকারী খাল দখল করে   আঞ্চলিক ও গ্রামীণ রাস্তাগুলো  পাশে পুকুর খননের সময় রাস্তাকে   পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করা করছেন।  এতে  করে এ সকল রাস্তা পুকুরে ভেঙ্গে যাওয়ায় পরবর্তীতে সরকারী সংস্কার কাজে অধিক টাকা ব্যায় হচ্ছে। এ রকম রাস্তার সংলগ্ন পুকুরের সংখ্যাও কম নয় বলে জানিয়েছেন ওয়াশীন গ্রামের কৃষক আব্দুল মতি। 
    স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান,  পুকুর খনন করা এলাকায় ড্রাম ট্রাকে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মাটি পরিবহণ,  ত্রিপল ব্যবহার না করায় মাটি পড়ে  এলাকার পাকা রাস্তা ঘাটের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও শিশির পড়লে ওই সকল রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়ে । এছাড়া  সরকারী রাস্তার পাশে খাল দখল করে পুকুর করায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাঠে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হওয়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, এতে চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলী মাঠের প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে রবি শষ্য আবাদ করা সম্ভব হয়নি। 
    পুকুর খনন প্রসঙ্গে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত পক্ষে তাড়াশে যে সকল কৃষক তাদের নিজের জমিতে পুকুর খনন করছেন তা সবই উর্বর ফসলী জমি এবং এ সকল জমিতে বোরো, আমন, সড়িষার নিবির আবাদ হয়ে থাকে। অথচ, সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিমাণ ধান উৎপাদন হয় তাড়াশ উপজেলায়। এখানে পুকুর খননের ফলে মাছের চাষ বৃদ্ধি পেলেও আশংকাজনকভাবে  ধানী জমির পরিমাণ কমে আসায় খাদ্য শষ্য ধান উৎপাদন বছর বছর  হ্রাস পাচ্ছে। 
    ফসলী জমিতে পুকুর খনন প্রসঙ্গে  তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জানান, অনুমতি ব্যতিত যে কোন ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আর পুকুর খনন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও মাইকিং করা হচ্ছে। তবে জনসচেতনা বাড়াতে হবে।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:৩৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 286 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13260434
    ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৫৫ অপরাহ্ন