বন্ধের উপক্রম বেলকুচির আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার
০৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:০০ অপরাহ্ন


  

  • বেলকুচি/ কৃষি ও খাদ্য:

    বন্ধের উপক্রম বেলকুচির আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার
    ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৪:২৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    জহুরুল ইসলাম: সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীভাঙ্গণ কবলিত লাখো মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভেবে তৎকালিন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস হাসপ্রজনন খামার প্রতিষ্ঠা করে। তিনি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এডিবির অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের হ্যাচারীসহ আঞ্চলিক হাঁসপ্রজনন খামার প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) মাধ্যমে ২০১৩ সালে বেলকুচির শাহপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন জেলার একমাত্র আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। সেই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৮ জুন পর্যন্ত ভালো ভাবেই চলছিল। এরপর থেকেই এই প্রকল্পে কোন প্রকার বরাদ্দ না থাকায় জেলা প্রাণি সম্পদ ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তদারকিতে কিশোরগঞ্জ ও নীলফামারী হাঁস প্রজনন খামারের সহায়তায় কোন রকমে খুরিয়ে খুরিয়ে চলছে খামারটি। বেলকুচি উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২১ কোটি ৭৫লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠমো সহ পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি জেলার বেলকুচি উপজেলায় শাহপুর গ্রামে তিন একর জমির ওপর নির্মান করে সেটি সচল করা হয়। সেখানে রয়েছে বিশাল আয়তনের ছয়টি হাঁসের সেড, একটি হ্যাচরী বুডার সেড, অত্যন্ত আধুনিক মানের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্র (ইনকিবিউটর), জেনারেটর ঘর, একটি গভীর নলকুপ, উন্নতমানের আবাসিক ভবন, অফিস কক্ষ, বিশাল গুদাম ঘর, ডরমেটরী সহ ছয় হাজার হাঁস পালনের ব্যবস্থা। সেই সাথে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্রটিতে একই সাথে (ইনকিবিউটর) ২৮ হাজার ৮শ ডিম ঢুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারটিতে ২শ ৪৫টি বড় হাঁস ৬শ ৫০টি দেড় মাস বয়সি ছোট বাচ্চা হাঁস রয়েছে। এমন সুযোগ থাকার পরেও প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়ে পরেছে প্রতিষ্ঠানটি। সরেজমিনে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটিতে গিয়ে দেখা যায় ছয়টি সেডের মধ্যে চারটি সেড হাঁস শূন্য। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্রটিও (ইনকিবিউটর) রাখা হয়েছে বন্ধ। অফিস কক্ষ ও আবাসিক ভবন গুলো ও বন্ধ। কথা হয় খামার পরিচর্যায় থাকা কর্মীদের সাথে। আউটসোর্সিং প্রকল্পের মাধ্য অদক্ষ জনবল খাতে নিযুক্ত আরব আলী জানান,‘ আমরা পাটমার লিমিটেড ম্পোনীর মাধ্যমে পাঁচ জন অদক্ষ কর্মী এখানে থেকে বতর্মানে খামারটিতে পরিচর্যা করছি। ১৯ সালের আট ডিসেম্বর হতে আমরা কর্মরত হলেও এ পর্যন্ত বেতন পেয়েছি মাত্র ২২ দিনের। এতে আমরাই কেমনে চলবো আর কেমনে খামার চলবে। বেলকুচি উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়ীত্বপ্রাপ্ত খামার ব্যাবস্থাপক হিরা মিয়া জানান, এত বড় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি পরিচালনার জন্য নেই কোন ব্যাবস্থাপক ও পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা (পিডিও)। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে এসে এই খামারে দায়িত্ব পালন করাটা আমার জন্যও কষ্ট সাধ্য সেই সাথে এটি খামারের জন্যও বিপদ জনক। এখানে সার্বক্ষনিক দেখবহালের জন্য ব্যাবস্থাপক ও পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা (পিডিও) অত্যন্ত জরুরী। সেই সাথে প্রতিটি কর্মীই হতে হবে প্রশিক্ষিত যেটি সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, জেলার এক মাত্র হাঁস প্রজনন কেন্দ্রটি ছিলো একটি প্রকল্প। তাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এটির কার্যক্রম জনবল ও আর্থিক সংকটের কারনে স্থবির হয়ে পরেছে। প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতের অন্তর ভুক্ত করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলে যমুনা নদীর ভাঙ্গন কবলিত জেলার মানুকে হাঁস পালন করে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৪:২৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 361 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    বেলকুচি অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13299583
    ০৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:০০ অপরাহ্ন