খরস্রোতা করতোয়া শুকিয়ে এখন ফসলের মাঠ
০৬ এপ্রিল, ২০২০ ১১:২২ অপরাহ্ন


  

  • জাতীয়/ কৃষি ও খাদ্য:

    খরস্রোতা করতোয়া শুকিয়ে এখন ফসলের মাঠ
    ০৭ মার্চ, ২০২০ ০৭:৫৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    শামছুর রহমান শিশির : ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার যাতাকলে পড়ে এক সময়ের প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, সমুদ্রের যোগ্য সহচারী, স্রোতস্বিনী করতোয়া নদী বর্তমানে যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অতীতের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে নীচে নেমে যাওয়ায় করতোয়া নদী শুকিয়ে নদীবক্ষে চলছে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ। চলতি সেচ মৌসুমে করতোয়া নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এ কারণে, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। করতোয়া নদী নির্ভর শাহজাদপুরসহ উত্তর জনপদে সেচ কাজে ভ‚-গর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ব্যবহার রোধ করা না গেলে কৃষি প্রধান বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মহাসংকটের মুখোমুখী হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। শুষ্ক মৌসুমে করতোয়াসহ দেশের নদ-নদীর বক্ষে পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্প, তিস্তা প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সেচকাজ বিঘিœত হচ্ছে। ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে মরুকরণ করার প্রক্রিয়ার বেড়াজালে আবদ্ধ করায় বর্তমানে করতোয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে তীব্র নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রæতিতে, এসব নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ছোট বড় ধূঁ-ধূঁ বালুচরের দিকে তাকালে হাহাকার করে উঠছে মন। কালের আবর্তনে, সময়ের পরিধিতে অনেক স্থানে করতোয়া নদীর পানিপ্রবাহ এলাকা অতীতের তুলনায় বহুলাংশে পেয়েছে। করতোয়ার শাখা নদী বক্ষে এক ফোটাও পানি দেখা যাচ্ছে না। মরুকরণের বিরূপ প্রভাবে নাব্যতা সংকট, বাসযোগ্য পানির অভাব ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করায় করতোয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে প্রায় ৪০ প্রজাতির দেশীয় ছোট মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে! এসব কারণে, করতোয়া নির্ভর কৃষক ও এলাকাবাসীর বুকভরা আশা ক্রমশঃ হতাশায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া নদীর বুক শুকিয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন নৌ-চলাচল মারাত্বকভাবে বিঘিœত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

    করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ জলসীমা শুকিয়ে ও সংকুচিত হয়ে প্রায় ৪০ দেশীয় জাতের ছোট বড় মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। মরুকরণের বিরূপ প্রভাবে করতোয়াসহ মিঠা পানির প্রায় ২০ শতাংশ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের বসবাস বিঘিœত ও প্রজনন বিপন্ন হচ্ছে। করতোয়াসহ এসব নদীতে মলা, ঢেলা, মৌছি, চ্যালা, সরপুঁটি, খসল্লা, ভ‚ল, বৌ, ঘাইর‌্যা, বাঁচা, পুঁটি, বায়েম, বাতাসি, কাজলী, বাইল্যা, রাণী, পবদা, টেংরা, পোয়া, মলা, ঢেলা, কাকিলা, চাঁন্দা, খলিসা, ছোট চিংড়ি, টাকি, চ্যাং, গোচি, চাপিলা, ভেঁদা, তারা, মেনি, তিতপুঁটি, খরকুটি, দেশীয় জাতের শিং ও কৈ, দারকিনা, পটকা, কাশ খয়রা, টাটকিনি, লোলসা, রায়না, তেলা টাকি, তারাবাইন, শালবাইনসহ মিঠা পানির দেশীয় এসব প্রায় ৪০ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তি’র পথে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেটিভ ন্যাচার (আইইউসিএন) এর এক সমীক্ষায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার বিরূপ প্রভাবে শাহজাদপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বুক চিরে প্রবাহিত খর¯্রােতা করতোয়া নদী এখন মৃতপ্রায়; ধুকছে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। হিমালয় থেকে প্রবাহিত এ নদী ঐতিহাসিকভাবে নানান রূপ-লাবণ্য আর মৎস্য সম্পদে ছিল সমৃদ্ধ করতোয়া। এই নদীটিই এ অঞ্চলের কৃষিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। করতোয়াই শাহজাদপুরসহ এ অঞ্চলের মানুষসহ প্রাণিকুলের ভেতর প্রাণ সঞ্চার করে। অথচ, নদীটি বহুমূখী কারণে হারিয়ে ফেলেছে যৌবন। করতোয়া নদীর দিকে তাকালে এখন বৃদ্ধ মানুষের রক্ত নালির মতো সরু মনে হয় । কালো রক্ত নালীর মতো নালা নর্দমার মতই বয়ে যায় শুষ্ক মৌসুমে করতোয়ার পানি। এক সময় নদীটি ছিল উত্তাল ¯্রােতঃস্বিনী। দূ’কুল ছাপিয়ে উত্তাল করতোয়া ধুয়ে দিত এ অঞ্চলের প্রকৃতিকে। নদীর বুকে রাজহাঁসের মতো ভাসতো বড় বড় নৌকা, ছোট বড় জাহাজ। সেই যৌবনা নদী এখন খাঁ খাঁ মরুভূমি। প্রাণহীন নদীর ওপর দিয়ে এঁেক বেঁেক চলে গেছে পায়ে হেঁটে চলার রাস্তার মতো পানি। মাটির গভীর থেকে পানি তুলে নদীর উপর চাষ করা হচ্ছে ধান। 
    প্রাচীন কাল থেকেই করতোয়া ছিল বানিজ্যিক ভাবে এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ।  ইতিহাসের পাতায় তাকালে অনেক কিছুই এখন স্মৃতি। ১১ শতকের শেষের দিকে সাহিত্যে কর্মে রয়েছে এর রূপ লাবন্য ও বাণিজ্যিক বর্ণনা। পৌÐ্রবর্দ্ধন রাজা পরশুরাম সংস্কৃত ভাষায় ধর্মীয় ভাবাবেগপূর্ণ একটি উৎকৃষ্ট কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। যার নাম ‘করতোয়ার মাহাত্ম্য’। তাতে উল্লেখ এই করতোয়া নিয়ে এক অপূর্ব সাহিত্য! ‘করতোয়ার মাহাত্ম্য’- ‘পার্ব্বতী কহিলেন, হে প্রভু! নদীমধ্যে করতোয়া ও পৌÐ্রক্ষেত্র মাহাত্য শ্রবণ করিনাই। কোন্ কালে কি প্রকারে কোথা হইতে করতোয়া নদীর উৎপত্তি হইয়াছে, শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি; যদি আমাতে অনুগ্রহ থাকে তবে বিশেষ করিয়া বলুন; আর কাহা দ্বারা ও কি প্রকারেই বা সেই অত্যুত্তম পৌÐ্রক্ষেত্র প্লাবিত হইয়াছে, শুনিতে ইচ্ছা করি।’ মহাদেব বলিলেন- ‘হে দেবি! তোমার পাণিগ্রহণসময়ে হিমালয় কর্ত্তৃক যে সম্প্রদানীয় জল আমার হস্তে অর্পিত হইয়াছিল, ঐ জল আমার হস্ত নির্গত হইয়া পৃথিবীতে পতিত হয়, পরে করতোয়া নামে খ্যাত হইয়াছে। 
    যে করতোয়া একদিন বাণিজ্যের গতিময় পথ ছিল যার গা বেয়ে দূর দূড়ান্ত থেকে বনিকেরা ছুটে আসতো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদে। পাট সমৃদ্ধ বাংলাদেশে এক সময়ে পাটের বৃহৎ বাজার ছিল করতোয়ার নদীর পাড়ে পাড়ে। এখান থেকে জাহাজ ভরে চলে যেতো দূর দূরান্তের দেশে দেশে। মৎস্য সম্পদ আহরণের করতোয়া এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আপন নাম। আগের দিনে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে উৎসব করে মাছ ধরতে মহিষের সিংহায় ফুঁ দিয়ে জানান দিয়ে বাউত, নামতো করতোয়ার পাড়ে ও শাখা নদীতে। পলো, ঢেলা জাল, ঝাঁকি জাল, ধর্ম জাল, ব্যার জালের ব্যবহার করতো নদী পাড়ের মানুষরা। এখন সবই প্রায় অতীত স্মৃতি। 
    জানা গেছে, প্রতি বছর ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এসময় পানির অভাবে করতোয়া নদী এবং এর শাখানদী, খাল-বিল শুকিয়ে যায়। ফলে করতোয়া বিধৌত উত্তরাঞ্চলে শুরু হয় দুঃখ দুর্দশার পালা। প্রকৃতি নির্ভর কৃষিপ্রধান দেশের এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হয়ে যায় মিনি মরুভূমি। দ’ুচোখ যেদিকে যায় সেদিকেই দেখা যায় ধূঁ-ধূঁ বালুচর। উজানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ৫৩ টি নদ-নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রূদ্ধ করে দেওয়ায় সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার বিরূপ প্রভার পড়ায় পানির অভাবে শাহজাদপুরসহ উত্তর জনপদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে করছে ভারসাম্যহীন। এসব কারণে, করতোয়া শাখানদীসহ খাল-বিলের গতি প্রকৃতির প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের অনেক গ্রামীণ ঐতিহ্য। আবহমান কাল থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষের প্রিয় সুস্বাদু দেশী মাছ এখন সোনার হরিণের মতো। এখন আর দেখা যায় না গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুসঙ্গ নৌকা বাইচ, খরা জাল, সূতি ফাঁদ, সেঁচের মাধ্যম দাঁড়। মৎস্য ভান্ডার সংকুচিত হওয়ায় ও শুকিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য মৎস্যজীবী বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই পেশার পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রকৃতি মূলত চারটি নদী-প্রণালীর স্রোতধারার ওপর নীর্ভরশীল। এই নদীগুলোকে ঘিরে শুরু হয়েছে ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়া। ব্রক্ষপুত্র-যমুনা নদী প্রণালী, পদ্মা- গঙ্গা নদী প্রণালী, সুরমা-মেঘনা নদী প্রণালী ও চট্রগ্রাম অঞ্চলের নদী প্রণালী এ চারটি নদী প্রণালীতে ১৭ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে স্রোতধারা প্রবাহিত হয়। অথচ এর মাত্র ৭ শতাংশ স্রোতধারা প্রবাহিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এসব নদী প্রণালীগুলোর গতিপথ পরিবর্তন ও রূদ্ধ করার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বরেন্দ্র এলাকা, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ দেশের মোট ভূমির ১১ শতাংশ এলাকা। বাংলাদেশে আগত নদীগুলোর প্রধান যোগানদাতা ভূটানের উপ-নদীগুলোতে বাঁধ দিয়েছে ভারত। এতে ব্রক্ষপুত্র যে স্থান দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে আগে তার প্রশস্ততা ১৫ কিলোমিটারের ওপর থাকলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ কিলোমিটারের নীচে। ফলে প্রায় ১৩ কিলোমিটার বিশাল এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে ধূঁ-ধূঁ বালুচর। এছাড়া ভারতের ফারাক্কা বাঁধও বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ, একইভাবে মেঘনার উজানে আসামের বরাক নদীতে কাছাড়-মনিপুর-মিজোরামে প্রায় শোয়া তিন’শ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন ড্যাম নির্মাণ, তেঁতুলিয়ার উজানে মহানন্দা নদীতে বাধ নির্মাণ, ভৈরবের উজানে নদীয়া জেলার করিমপুর থানার গঙ্গারামপুরের জলঙ্গী নদীতে রেগুলেটর ও ক্রসবাধ নির্মাণ, কুশিয়ারা নদীতে গ্রোয়েন নির্মাণ, গোমতীর উজানে মাথারানী নামক স্থানে বাঁধ নির্মান করে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় করতোয়াসহ নদ-নদীগুলো শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।
    পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভারত অধিকাংশ নদ-নদীতে বাঁধ নির্মান করে শুধু করতোয়া নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহকেই বাধাগ্রস্থ করেনি। একতরফা পানি প্রত্যাহারের জন্য আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনাও গ্রহন  করেছে। ভারত এই পরিকল্পনায় গঙ্গা, ব্রক্ষপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ,করতোয়া ও মহানন্দা নদী থেকে এক তৃত্বীয়াংশ বা এর চাইতেও  বেশী পানি প্রত্যাহার করে নেবে। ফলে করতোয়াসহ দেশের প্রায় সব নদ-নদীই অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। নদী বক্ষে পানিপ্রবাহ এলাকা কমে গেলে সমুদ্রের লোনাপানি মিঠাপানিকে গ্রাস করবে। ভূ-গর্ভস্থ ও উপরিভাগের পানিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাবে। ভূ-গর্ভের পানি নেমে যাওয়ার কারণে সেচ প্রকল্পে পানির প্রধান উৎস গভীর- অগভীর নলক‚প থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ পানি প্রাপ্তি মারাত্বকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শুধু কৃষিখাতে সেচকাজে পানির সংকট ছাড়াও গৃহস্থালী কাজেও পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। দেশের পানিসম্পদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, ‘নয়-দশ বছর ধরে করতোয়া নদীর পানির স্তর ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তরেরও নীচে নেমে গেছে। সরাসরি এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে শাখা নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে। এ দুরবস্থার আরও একটি কারণ হচ্ছে করতোয়া নদী অববাহিকায় অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় অগভীর নলকূপের ব্যবহার।’ জানা গেছে, করতোয়া নদী বিধৌত দেশের শষ্যভান্ডারখ্যাত উত্তরাঞ্চলে সেচকাজে প্রায় ১৫ সহস্রাধিক গভীর ও প্রায় দেড় লক্ষাধিক অগভীর নলকূপ ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি দুই কিউসেক গভীর নলক‚প থেকে পানির অপচয় রোধসহ ৪০ থেকে ৪৫  একর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। ড্রেনেজ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করা হলে ওই একই গভীর নলক‚প থেকে প্রায় ১শ’ ৫০ থেকে ১শ’ ৬০ একর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব । করতোয়া বিধৌত উত্তরাঞ্চল ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ায় নির্মম, নিষ্ঠুর যাতাকলে পিষ্ট হয়ে এবং বিশেষত গভীর ও অগভীর নলক‚প থেকে অপরিকল্পিতভাবে অতিমাত্রায় পানি উত্তোলনের ফলে করতোয়া নদীর পানির স্তর অতীতের তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২০/২৫ ফুট নীচে নেমে গেছে। এতে মরা খালে পরিণত হয়েছে করতোয়া। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি, মৎস্যখাতসহ প্রকৃতি নির্ভর বহুমূখী খাতগুলো যার বিরূপ প্রভাব সরাসরি পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। সেইসাথে, করতোয়াসহ বিল-নদী-নালায় প্রায় দেশীয় ৪০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। মিঠা পানির মাছের প্রায় ২০ শতাংশ প্রজাতির মাছের স্বাভাবিক বসবাস ও প্রজননক্ষেত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আবারও জীবিত হবে যৌবন ফিরে পাবে ঐতিহাসিক করতোয়া-এমনটাই দাবী এ অঞ্চলবাসীর।

    সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, শাহজাদপুর ০৭ মার্চ, ২০২০ ০৭:৫৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 182 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    জাতীয় অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    13291932
    ০৬ এপ্রিল, ২০২০ ১১:২২ অপরাহ্ন