সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

ঘুষ খায় না ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই - সততায় মুগ্ধ শাহজাদপুরবাসি
২২-০৮-২০১৬ ০৩:৪৫ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Nov 18, 2018 11:32 PM

পুলিশ ঘুষ খায়না এমন দৃষ্টান্ত খুজে পাওয়া বিরল। আর এই বিরল দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সকল পার্থীব লোভ-লালসা ত্যাগ করে ধার্মিক সৎ যোগ্য ন্যায় পরায়ন ও আদর্শের প্রতিক হিসেবে পুলিশ বিভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই খুব অল্প দিনেই তিনি শাহজাদপুর বাসির মন জয় করে নিয়েছেন। তাই রিকশা চালক থেকে শুরু করে ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী মহল তাকে এক বাক্যে সৎ মানুষ হিসেবে চেনেন জানেন। তার কাছে এসে উপকার পাননি এমন লোক খুজে পাওয়া দূরুহ। খোজ নিয়ে জানা যায়, দিন মজুর ভিখারী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার মানুষ তার সাথে খুব সহজে দেখা করে নিজের সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। তিনি প্রতিটি ব্যক্তির সমস্যা হাসি মুখে আন্তরিকতার সাথে গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করেন। সর্বদা হাস্যজ্জল ও বিনয়ী এই ব্যক্তিটি এ কাজের বিনিময়ে কখনো কারো কাছ থেকে একটি পয়সা ঘুষ নিয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত খুজে পাওয়া যাবেনা। তিনি তার সৎ উপর্জনের অর্থ দিয়ে পরিবার পরিজনের ভরন-পোশন করে থাকেন। সকল প্রকার হারাম উপার্জন তিনি ত্যাগ করে সদা-সর্বদা হালাল পথে নিজেকে সপে দিয়েছেন। তিনি এতটাই ধার্মিক যে, এক ওয়াক্ত নামাজ বাদ গেছে এমন নজির নেই। তার সহধর্মীনি সামীমা ইয়াসমিন, ছেলে- হাবিব বিন আব্দুল হাই, কন্যা- হুমায়রা মারিয়াম অত্যন্ত ধার্মিক ও পর্দানশীল। ২০১৩ সালের ২রা জুন ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই শাহজাদপুর থানায় যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শাহজাদপুরবাসির মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি ওমরা হজ্ব পালন করে দেশে ফিরেছেন। কর্তব্য কাজে তিনি এতটাই নিষ্ঠাবান যে ভূয়ষী প্রশংসার দাবিদার। তার বিনয়ী আচারণ দিয়ে শাহজাদপুরের রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মন জয় করে নিয়ে তাদের সহাবস্থান মনবৃত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে শাহজদপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যান্য জেলা-উপজেলার চেয়ে ভাল এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। প্রশাসনিক দক্ষতার সাথে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চাদাবাজী, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি সহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই এর পদক্ষেপের কারণে এসব অপকর্ম শাহজাদপুরে নেই বললেই চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শাহজাদপুর থানাকে তিনি একটি আদর্শীক মডেল থানায় রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। তার উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরাও তার কাজে কর্মে অত্যন্ত খুশি। তিনি হিন্দু ওয়ারেশি সম্পত্তি উদ্ধার, কাকিলামারি গ্রামের ২০ বছরের বিরোধপূর্ণ ৩৩ বিঘা জমি উদ্ধার সহ নানা ধরণের বিরোধ নিষ্পত্তি সহ অসংখ্য মামলার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে এলাকাবাসির ভূয়ষীর প্রশংসা অর্জন করেছেন। এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী সহ নানাবিধ অপরাধীদের সাজা প্রদান করেছেন। তিনি শাহজাদপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে ব্যাপক সুনাম। সব মিলিয়ে তিনি একজন আদর্শবাদী ন্যায়পরায়ন ও ধার্মিক পুলিশ কর্মকর্তা। এমন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ বিভাগে পাওয়া বিরল। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব কাজী সওকত, মানবাধিকার কর্মী গোলাম সাকলাইন, সাংবাদিক আতাউর রহমান পিন্টু সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন পুলিশ বিভাগের সকল কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই এর মতো আদর্শবান হলে দেশের অপরাধ ও দূর্ণীতি ৭০ ভাগ হ্রাস পাবে। জানা যায়, ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই ইসলামের ইতিহাসে এমএ এবং এলএলবি পাস করে ১৯৯৯ সালের ৭ ডিসেম্বর নওগা সদর থানায় এসআই পদে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। এর পর র‌্যাব হেডকোয়াটার, জাতিসংঘ মিশনের হয়ে হাইতি ও রায়গঞ্জ থানায় দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। প্রতিটি কর্মস্থলে তিনি সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন। সর্বশেষ কর্মস্থল শাহজাদপুর থানায় যোগদান করেই তিনি সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোসনা করেন। এ ছাড়া এ থানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শত শত মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে মামলা নিষ্পত্তিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছেন। ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও তামিল আসামিদের গ্রেফতার করে যথা সময়ে আদালতে সোপর্দ করেছেন। এতে এলাকার অপরাধ বহু অংশে কমে গেছে। সম্প্রতি তাকে নাটোর জেলায় বদলির অর্ডার হওয়ায় শাহজাদপুরবাসি হতাশ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা এ বদলি অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবী জানিয়েছে।



২২-০৮-২০১৬ ০৩:৪৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20160822154512.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative