সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

শিমুল হত্যা: আবারও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্ত্রী
অনলাইন নিউজ এডিটর ১২-০৭-২০১৮ ০৪:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Oct 23, 2018 11:27 PM

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যার ১৭ মাস পার হলেও এখনও বিচার শুরু হয়নি। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন। এ অবস্থায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। 


নুরুন্নাহার বলেন, প্রধান আসামি শাহজাদপুর পৌর মেয়র (সাময়িক বরখাস্ত) হালিমুল হক মিরু কারাগারে থাকলেও প্রায় সব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন মিরুকে জামিনে ছাড়িয়ে নিতে উচ্চ আদালত চষে বেড়াচ্ছেন তার স্বজনরা।


তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রধান আসামি জামিনে বের হয়ে এলে গুরুত্বপূর্ণ এ মামলাটি প্রভাবিত হবে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রীসহ স্বজনরা শুরু থেকেই এ মামলায় দীর্ঘসূত্রতা ও গড়িমসির অভিযোগ করে আসছেন। সমকাল পরিবারও শিমুল হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়ে আসছে।


আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুল হত্যা মামলাটির মূল বিচারকাজ এখনও শুরু হয়নি। এতদিনে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়া তো দূরের কথা, এখনও আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে অভিযোগ গঠনই হয়নি। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়ারও অগ্রগতি নেই। যদিও খুনের ঘটনার পর পুলিশ মামলাটির চার্জশিট তিন মাসের মধ্যেই আদালতে জমা দেয়। 


মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য অনুমতিপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া গত প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেই অনুমতি এখনও সিরাজগঞ্জে আসেনি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলেই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য কেবল গেজেট জারি হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপ্রাপ্তিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর সমন্বয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশপত্র গত ৩০ জানুয়ারি পাঠানো হয়। উল্টো বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার পাশাপাশি দোষীদের বাঁচাতে একটি চক্র শুরু থেকেই কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতে এ মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ধার্য রয়েছে। 


শিমুল হত্যাকাণ্ডের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার স্বজনদের দেখতে গিয়ে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরে কয়েক দফা জেলা প্রশাসককে তাগিদ দেন। কিন্তু এখনও সে কাজের অগ্রগতি নেই। 


পুলিশ সুপার মো. মিরাজ উদ্দিন বলেন, পুলিশ স্বল্প সময়ে চার্জশিট দিয়েছে। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ও জেলা প্রশাসকের পরামর্শে সুপারিশপ্রাপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পত্র পাঠানো হয়। কিন্তু এখনও সুপারিশ পাওয়া যায়নি। 


জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রহমান বলেন, 'মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর মামলার নথিপত্র ও সুপারিশ পাঠিয়েছি। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গেলে গেজেট জারি হবে। যেটি আমরা এখনও হাতে পাইনি।'


সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইফতেখার উদ্দিন শামীম বুধবার বলেন, শিমুল হত্যাকাণ্ডের মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি এখনও মেলেনি। 


২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান সমকাল সাংবাদিক শিমুল। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ কমপক্ষে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। পুলিশ প্রায় তিন মাস পর মিরু ও মিন্টুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মিন্টুসহ ২৯ আসামি এরই মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। মিরু জেলা কারাগারে রয়েছে।



১২-০৭-২০১৮ ০৪:১৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20180712161523.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative