সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

জৌলুসহীন যমুনায় অসংখ্য চরঃ পারাপারে সীমাহীন দুর্ভোগ
নিউজরুম ০৯-০১-২০১৯ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Jan 22, 2019 05:22 AM

আবদুল জলিলঃ কাজিপুরের পূর্ব সিমান্ত দিয়ে প্রবাহমান যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক  হ্রাস পাওয়ায় নদী বক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। দিন দিন এর প্রশ্বস্ততা বাড়তে বাড়তে ১৫ কিঃমিঃ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে উজানের পানি বইতে গিয়ে যমুনা তার খেই হারিয়ে নানা শাখা-প্রশাখা, আর চর- ডুবোচরে নিজেকে প্রকাশ করছে। এককালের খরস্রোতা  যমুনা শুস্ক মৌসুমে পানিহীন প্রাণহীন এক মরুভূমি। এ কারণে দেড় লক্ষাধিক চরবাসির যাতায়াত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

 

 শুষ্ক মৌসুমে পালতোলা নৌকার বদলে এখন যমুনার বুকে চলাচল করে গরুর গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ি, আর ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল, লছিমন, করিমন অথবা ভটভটি। আর এতে করে খরচ যেমন বেশি তেমনি কয়েক কিমি. পাড়ি দিতেই দিনের বেশিরভাগ সময়  চলে যাচ্ছে। পানি কমার ফলে যমুনা নদীর ১০টি রুটে নৌ-চলাচল দারুনভাবে বিঘিন্ত হচ্ছে। উপজেলার মেঘাই ঘাট থেকে প্রতিদিন নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুর নগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহড়াবাড়ী, রুপসার চরে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়াত করতো। শুস্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে উঠায় নৌযান চর ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে করে ইঞ্জিনের তেল খরচ ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রী ভাড়া ও মালামাল পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। 


 সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে নৌঘাটগুলোতে। নদীর পানি কামার ফলে নৌকার ঘাট সরতে সরতে মূল স্থান থেকে দেড় থেকে আড়াই কিমি. পর্যন্ত দূরে সরে গেছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ বালুচর পাঁয়ে হেটে নৌকায় চড়তে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালামালসহ মহিলা যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখনও যমুনার পানি যেভাবে কমছে তাতে মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাট থেকে চলাচলকারী সবগুলো রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে শতাধিক নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়ার আশংকায় রয়েছে। 


নাটুয়ারপাড়া ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ওমর আলী মন্ডল জানান, ‘যমুনার পানি কমে যাওয়ায় আগে যেখানে নদী পার হতে পৌণে এক ঘন্টা লাগতো এখন প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। এতে করে দিনে একবারের বেশি কোন নৌকার সিরিয়াল পড়েনা। যাত্রীরাদেরও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।’ এদিকে যমুনা সার কারখানা থেকে নদী পথে সারসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনেও দেখা দিয়েছে নিশ্চয়তা।

 ঢেকুরিয়া বাজারের সার ডিলার হযরত আলী জানান, ‘দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটে সারের নৌকা আনা যায়না। অনেক সময় মধ্য চরে নৌকা  আটকে যওয়ায় নৌকা ঘাটে পৌঁছাতে এক থেকে দেড়দিন অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।’ 

নাটুয়ারপাড়া ঘাটের চেইন মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ৩ কিলোমিটার দূরের নাটুয়ারপাড়া ঘাটে পৌঁছতে এখন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে নৌ চলাচল অনেক কমে গেছে।’ 

মেঘাই ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু তালহা জানান, ‘নৌকা কম চলায় এখন আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও কমে গেছে।’

 

 



০৯-০১-২০১৯ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190109091430.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative