সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

চৌহালীতে বোরোর আবাদে বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের
নিউজরুম ০৯-০২-২০১৯ ০২:০৪ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Apr 20, 2019 05:17 PM

চৌহালী  প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে শুরু হয়েছে বোরো চাষাবাদ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে পানি সেচ, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।  কৃষি কাজে সহযোগিতা করছে কৃষানীরাও। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। তবে লোকসান ঠেকাতে আগামী বোরো ধান ক্রয় মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি জানান তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চৌহালী উপজেলায় এবার উফশী ও হাইব্রিড ১৮১৫ (এক হাজার আটশত পনেরো) হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৯, ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৫৮ সহ ২ হক্টের হাইব্রিড ধান চাষ হচ্ছে। উপজেলায় চলতি মৌসুমে চাষিদের মধ্যে বোরো চাষের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কম। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
পশ্চিম কোদালিয়া গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, আমাদের ইঞ্জিন চালিত মেশিন দিয়ে ইরি গেষন করতে হয়,এলাকায় এখনো মটর চালিত নলকুপ পুনঙ্গ রুপপায়নি ফলে বিঘা প্রতি খরচ বেড়ে যায়,বাজারে ধানের মুল্য কম থাকায় কৃষকের সমস্যা, এ বছরে বোর মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ  কম। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছি। কৃষি অফিস আমাদের পাশে থেকে নানা রকম সহযোগিতা করে আসছে।
উপজেলা রেহাইপুখুরিয়া  গ্রামের কৃষক সোনা উদ্দিন বলেন,  নলকূপ দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। সবাই একসাথে জমিতে চারা রোপণ ও জমি প্রস্ততে নলকূপের ওপর কিছুটা চাপ পড়েছে। অপরদিকে মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি চলছে। দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সাথে রয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ। ইঞ্জিন চালিত মেশিন থেকে ঠিকমতো পানি  পাওয়ায় জমি প্রস্তুত করতে কোন সমস্য হচ্ছে না।
চৌহালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে  সরেজমিনে দেখা যায় কৃষকেরা কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে উৎসবের সহিত সারিতে বোরো ধানের চারা রোপন করছে। সেই সাথে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি পাচিং(ভুমিতে ডাল পুতে) ব্যবহার করছে। কোদালিয়া গ্রামের হযরত আলী ও আলমগীর বলেন, সারিতে চারা রোপন করলে বিঘাপ্রতি ৩/৫হাজার চারা বেশী লাগানো যায়,এতে ফরন বেশী পাই,জমিতে ভার বাতাস পায়,ফলে রোগ-বালাই,পোকা-মাকর কম লাগে। উপজেলা বিনানই গ্রামের কৃষক  রহিম বলেন,  বিঘাপ্রতি জমি চাষ করতে খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা। এর মধ্যে সার, কীটনাশক, জমি চাষ-রোপণ, পানি সেচ, ধান কাটা-মাড়াই রয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন হয় ২০-২২ মন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম ৭৫০ টাকা করে। যাদের নিজস্ব জমি আছে তাদের কিছুটা লাভ থাকে। কিন্তু যারা বর্গাচাষি তাদের কিছুই থাকে না। এতে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে বলে তারা জানান। উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের চাষি ও কৃষক পরিবারদের দাবি সরকার যেন সরাসরি কৃষকের কাজ থেকে ধান ক্রয় করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেরিন আহমেদ জানান, চলতি বছরে বোরো মৌসুমে কৃষককে সার, বীজ সহায়তা এবং কৃষাণীকে এনএডিবির আওতায় সার, বীজ বিতরণসহ বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন সরকার কৃষি বান্দব সরকার চাষিদের প্রনোদনা কর্মসুচি ও  রাজস্ব প্রকল্পসহ বিভিন্ন র্কসুচির আওতায় বিনা মুল্যে সার, বীজ, কীটনাশক কৃষকদের হাতে পৌছে দিচ্ছেন। এতে কৃষকরা অনেকটাই উপকৃত হচ্ছেন কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে উৎসবের সহিত তারা সারি বদ্ধভাবে বোরো ধানের চারা রোপন করছে। সেই সাথে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি পাচিং(ভুমিতে ডাল পুতে) ব্যবহার করছে। সারিতে চারা রোপন করলে বিঘাপ্রতি ৩/৫হাজার চারা বেশী লাগানো যায়,এতে ফরন বেশী পাই,জমিতে ভার বাতাস পায়,ফলে রোগ-বালাই,পোকা-মাকর কম লাগে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারও বোরো আবাদে বাম্পার ফলন হবে ইনশা-আল্লাহ।



০৯-০২-২০১৯ ০২:০৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190209140457.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative