সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

চৌহালীর আজিমুদ্দিন মোড় হতে খাষশাহজানী সড়কটির বেহাল দশা, ভাঙ্গাচুড়া খানা খন্দে ভরা মরণ ফাঁদ (ভিডিও সহ)
নিউজরুম ১২-০৪-২০১৯ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Jul 22, 2019 03:02 PM

মোঃআব্দুল লতিফঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার  উত্তর খাষকাউলিয়া আশরাফ মাষ্টারের বাড়ী সংলগ্ন  ব্রীজ থেকে খাষশাহজানী বাজার  পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের অভাবে শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ অবস্থা বহু দিন থেকে চলে আসলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা ডিজিটাল যুগেও  রাস্তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং হতাশায় শিক্ষার্থীরা।

 

রাস্তার কাজ ও ভাঙ্গা ব্রীজ নির্মাণ  না দেখে এলাকার যুব সমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের বাসের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।  সিরাজগঞ্জ দক্ষিণ পুর্ব অঞ্চল চৌহালী উপজেলার উত্তর অঞ্চল  উত্তর খাষকাউলিয়া, চরজাজুরিয়া গ্রামসহ, নাগরপুরের মারমা, আটাপাড়া, সুবর্নতলী,ভুমুরিয়া. খাষশাহজানী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপুর্ণ এক মাত্র রাস্তা এটি। এছাড়াও চৌহালী হতে টাঙ্গাইল যাতায়াতের জন্য সহজ রাস্তা হিসেবে অধিকাংশ লোকজন এই রাস্তাকেই ব্যবহার করে। চৌহালী ও নাগরপুর উপজেলার উন্নয়নকামী মানুষের সমন্বয়ে খাষশাহজানী বাজার, এম.এ করিম উচ্চ বিদ্যালয়, খাষকাউলিয়া কে.আর. পাইল মডেল উচ্চ বিদ্যালয,খাষকাউলিয়া মোড় বাজার. আছিরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়, সুবর্নতলী বাজার,  বিদ্যালয়,চৌহালী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, চরজাজুরিয়া  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,  রাইজিংসান কোচিং সেন্টার,  ও চৌহালী এলাকা।

 

রাস্তার পাশে রয়েছে গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা। এসব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আশপাশের গ্রামের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে তাদেরও যাতায়াতে ভোগান্তি। খাষকাউলিয়া গ্রাম থেকে খাষশাহজানী হাট পর্যন্ত ৩ কিঃ মিঃ রাস্তা কাচা থাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী পথযাত্রী প্রতিনিয়ত চলাচল করছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে। বৃষ্টিসহ বর্ষার দিনে সড়কে হাটু পানি ও হাটু পর্যন্ত কাঁদা হয়। এ রাস্তার যানবাহন চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খাষকাউলিয়া ছিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আশরাফ আলী ও মারমা গ্রামের ছালাম মহুরী জানান, এ রাস্তায় সারা বছরই জনদুর্ভোগ,বর্ষা মৌসুমে রাস্তা তাদের মরণ ফাঁদ।

 

জনবহুল রাস্তা পাকা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের  চলাচলে দুর্ভোগ এছাড়াও চৌহালী খাষশাহজানী পাকা সড়কটি যমুনায় গ্রাস করায় কৃষকের উৎপাদিত সবজিসহ সকল ধরনের মালামাল বাজারে নিতে কষ্ট হয়। এ সড়কে যানবহনে গরু ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল অযোগ্য হয়ে রয়েছে। সড়ক খারাপ হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করতে চায় না। বিষয়টি স্থানীয় নেতা ও জন প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা সেমিনারে অবহিত করেও কোন লাভ হয়নি। সদর খাষকাউলিয়া  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান শহিদ জানান, এ রাস্তাটি অবশ্যই জনবহুল ও গুরুত্বপুর্ণ। কিন্ত তিনি আন্তরিক হলেও নানা কারণে ভাঙ্গা সড়কটি নির্মাণ ও কাচা রাস্তা এখনো পাকা করা সম্ভব হয়নি।

 

আওয়ামীলীগ (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি আবু নজির মিয়া বলেন, খাষশাহজানির খগেনঘাট থেকে এস.বি.এম কলেজ এর পাশের ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, পাকা করন ও  ব্রীজ(উপজেলা পরিষদ স্থাপনের জমির) পাস থেকে সুবর্নতী.খাষকাউলিয়া কে আর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে খাষশাহজানী বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারণ ও পাকা করা  অতিব জরুরী।গুরুত্বপুর্ণ এ রাস্তার কে. আর.পাইলট সরকারী মডেল স্কুলের পাশে রাস্তা ভাঙ্গায় স্বেচ্ছা শ্রমে বাঁশ দিয়ে সেতু নির্মান হচ্ছে। মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিন আহম্মদ বলেন,উপজেলার  অন্যতম বিদ্যালয়টিতে ৪শত শিক্ষার্থীসহ এলাকার প্রায় ১০টি স্কুল,মাদ্রাসা ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের এ রাস্তা সংস্করণ ও পাকা করণের অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে।

 

 

কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আমাদের কষ্ট অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ বলেন,রাস্তা ভাঙ্গায় গত দুইবারের মত বর্ষার আগেই স্বেচ্ছা শ্রমে বাশের সেতু নির্মাণ করছি।উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি এ রাস্তাটি মেরামত করা হোক। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃতাহীর জানান,নদী ভাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।এছাড়াও এলাকার  জনগণ, উপজেলা চেয়ারম্যানরা জাতীয় সংসদকে রাস্তাটি পাকা করণের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করবো। এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক সরকার বলেন, রাস্তাটি অবশ্যই মেরামত করা প্রয়োজন। আমি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



১২-০৪-২০১৯ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190412154342.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative