সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

একই দিনে তিন স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করলেন এসিল্যান্ড, কনের বাবা ও বরের মামার অর্থদণ্ড
নিউজরুম ১৩-০৪-২০১৯ ১২:২৭ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Aug 18, 2019 03:57 AM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ সদরে একই দিনে ০৩(তিন) স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদরের বহুলী ইউনিয়নের ব্রক্ষখোলা গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ স্বর্ণা খাতুন (১৩), সন্ধ্যা ৭ টায় বাগবাটি ইউনিয়নের মালিগাতি গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ পূর্ণিমা খাতুন (১৫) ও রাত ৯ টায় সয়দাবাদ ইউনিয়নের বাঐতারা গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ শারমিন খাতুন (১৫) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদরের বহুলী ইউনিয়নের ব্রক্ষখোলা গ্রামে সংগীয় ফোর্স নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে ব্রক্ষখোলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা খাতুন (১৩) এর সাথে বর রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী এর পুত্র ইমরান (২২) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কাজী পালিয়ে যায়।

 

কনে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়ে কনের মায়ের কাছ থেকে মেয়ের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেন। এরপর সন্ধ্যা ৭ টায় সিরাজগঞ্জ সদরের বাগবাটি ইউনিয়নের মালিগাতি এলাকায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে মালিগাতি গ্রামের মতিয়ার রহমান কন্যা পূর্ণিমা খাতুন (১৫) এর সাথে বর একই উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের খাতা জয়নগর গ্রামের আঃ রাজ্জাক এর পুত্র জাহিদুল ইসলাম (২২) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে হরিনা বাগবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়ে কনের বাবা মতিয়ার রহমান ও বরের মামা শহিদুল ইসলাম প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর রাত ৯টায় সয়দাবাদ ইউনিয়নের বাঐতারা গ্রামে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনে বাঐতারা গ্রামের সাইফুল সরকার এর কন্যা শারমিন খাতুন (১৫) এর সাথে পাইকপাড়া গ্রামের রইজ উদ্দিন এর পুত্র সাব্বির আলীর (২০) বিবাহের আয়োজন চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। কনে যমুনা সেতু দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। পরে প্রত্যেক ক্ষেত্রে কনের বাবা ও বরের বাবার কাছ থেকে কনে ও বর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সয়দাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নবীদুল ইসলাম,পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, আনসার ব্যাটালিয়ন পি.সি নুরুল ইসলাম ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যবৃন্দ।



১৩-০৪-২০১৯ ১২:২৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190413122708.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative