সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

সোনাগাজীতে চোরচক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক
নিউজরুম ১৬-০৫-২০১৯ ০৩:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল May 20, 2019 03:25 AM

সোনাগাজীতে মোটরসাইকেল চুরির হিড়িক পড়েছে। অপরাধীরা অপরাধের ধরন ও কৌশল পাল্টালেও পুলিশ পাল্টাতে পারেনি অপরাধ দমনের কৌশল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না পুলিশ। চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পেরেছে বা পারবে এমন নজিরও স্থাপন করতে পারছে না পুলিশ। এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা দিলেও যেন কৌশলে এড়িয়ে যেতে চান থানা পুলিশ। কোনো কোনো ঘটনায় সাধারণ অভিযোগ বা জিডি আকারে নিলেও রহস্যজনক কারণে মামলা হিসেবে রুজু করেন না তারা। ফলে উৎসাহিত হতে থাকে মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটি। একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা রয়ে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বসতঘরে, হাটে-বাজারে বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে রেখে নিজের মালিকীয় মোটরসাইকেলগুলো রক্ষা করতে পারছে না মোটরসাইকেল মালিকেরা। চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার বা সংঘবদ্ধ চোরের দল আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ ও চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

গত কয়েকদিনে ৭টির অধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকালে মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. ওমর পারভেজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি (ফেনী-ল-১১-৫১১৫) সোনাগাজী পশ্চিম বাজারের আলহেলাল একাডেমি সড়কের আবদুস সালামের দোকানের পাশে রেখে গরুবাজারে গেলে অজ্ঞাত চোরের দল মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়। ৫ মে সাংবাদিক জাবেদ হোসাইন মামুনের বসতঘরের দেয়াল টপকে চিলেকোঠা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে পালসার (ফেনী-ল-১১-০৭৭৫) মোটরসাইকেলটি ঘর থেকে নিয়ে যায় চোরের দল। সম্প্রতি সোনাগাজী পৌরসভার পান্ডব বাড়ির স্থানীয় যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমানের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সোনাগাজী পৌরসভা অফিসের সামনে থেকে আর চরসোনাপুর গ্রামের গোলাম মাওলা জিহাদীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ঘরের তালা ভেঙে নিয়ে যায়। একই গ্রামের মিয়া বাড়ির দিদারুল আলম তপনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের নদোনা গ্রামের আইয়ূব আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের বসতঘরের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (ফেনী-হ-১১-৭৫৬৯) চুরি যায়। নবাবপুরের আবদুল মান্নান রিয়াদের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি সোমবার ফেনী শহরের মিজান রোডের মাথায় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে দিনেদুপুরে চুরি হয়। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সদ্য জামিনে আসা এক আন্তজেলা ডাকাত সর্দার জানান, তাদের ওস্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ডাকাতদলের সদস্যরা ডাকাতি বন্ধ রেখে বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চুরির দিকে ঝুঁকেছে। কারণ এখন সাধারণ মানুষ ঘরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার  রাখে না। আবার সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চুরি করার সময় ধরা পড়ার ভয় থাকে না। ভারতের তৈরি একটি চাবি দিয়ে যেকোনো তালা নিমিষে খোলা যায়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোটরসাইকেল মালিক জানায়, চোরাইকৃত মোটরসাইকেলগুলো ফেনী থেকে নোয়াখালী এবং নোয়াখালীরগুলো ফেনী জেলায় বেশ কিছু অসাধু হোন্ডা গ্যারেজের মালিকের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। নোয়াখালীর কবিরহাট এলাকার চরাঞ্চলে চোরাই মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার ডিপো আছে। কোনো কোনো সময় চোরদেরকে দাবি মোতাবেক টাকা প্রদান করলে ওই ডিপো থেকে চোরাইকৃত গাড়িগুলো ফেরত দেয়। চরচান্দিয়া ইউনিয়নের গোলাম মাওলা নামের এক ব্যক্তির চুরিকৃত সিএনজি অটোরিকশাটি ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে ওই ডিপো থেকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই ডিপোতে শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা ও চোরাই মোটরসাইকেল রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরচান্দিয়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন এসব চোরাকারবারি সদস্যদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। কারাগার থেকে এসব অপরাধীরা সংগঠিত হয়। ফেনীর সব উপজেলা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, নোয়াখালীর কবির হাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং চট্রগ্রামের  মীরসরাই উপজেলার ভয়ঙ্কর ডাকাতদের এই বিশাল সিন্ডিকেটটি এখন সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। চোরা মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা আটকে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চুরি। 

এসব ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন আহম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ থানায় সদ্য যোগদান করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরির খবর পেয়েছি। চোরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অচিরেই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



১৬-০৫-২০১৯ ০৩:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190516151245.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative