সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

বদলগাছীতে বিভিন্ন দোকানে চলছে এলপি গ্যাসের অবৈধ ব্যবসা!!
নিউজরুম ২৯-০৫-২০১৯ ০৫:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Oct 16, 2019 05:20 PM

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় বিভিন্ন দোকানে অবাধে চলছে ফায়ার লাইসেন্সবিহীন এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের  অবৈধ ব্যবসা। যেকোন বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য নেই কোন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। সার-কীটনাশকের দোকান, মাছের খাবারের দোকান, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, মুদি ও রড-সিমেন্টের দোকান, এমনকি স্বর্ণকারের দোকানেও প্রকাশ্যে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের এসব দোকানিদের ফায়ার লাইসেন্স তো দূরের কথা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও তাদের নেই। বদলগাছী উপজেলা সদরসহ ৮টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাজারেই বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার কম-বেশি বিক্রি হচ্ছে। ১০টির কম সিলিন্ডার দোকানে থাকলে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না এমন আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বদলগাছীর অধিকাংশ এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়েই অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। লাইসেন্স আছে এমন গ্যাস ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য ট্রাকে করে বিপজ্জনক গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে  ভাঙাচোরা পাকা-আধাপাকা সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে চালিয়ে দোকানে দোকানে সরবরাহ করছে। ১০টির কম সিলিন্ডার মজুত করতে হলেও অধিকতর নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছেন না খুচরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরণের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ জোড়ালো করতে পারলে অনেক বড় জান-মালের ক্ষতি থেকে জনসাধারণ রেহাই পাবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

উপজেলা সদরের বিভিন্ন দোকানে, ভান্ডার পুর, কোলা, গোবরচাপা, মিঠাপুর, বালুভরা, পাহাড়পুর, মির্জাপুর,পাড়সোমবাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতা বিষয়ে কোন ধারণা নেই। সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা জেনেও তারা সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা করছে। বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিক্রয়ে প্ররোচিত হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা আইন অনুসরণ থেকে দূরে থাকছে। এইসব দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০ থেকে ২৫ পিস পর্যন্ত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে ব্যবসা করা হচ্ছে। দোকানের ভিতর বেশি পরিমাণ মজুত রেখে বিক্রয়ের নয়া কৌশল হিসেবে দোকানের সামনে ফুটপাতের ধারে দুই-চারটি সিলিন্ডার রেখে বিক্রয় করছে। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত জনসাধারণও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। কেননা এই ধরণের বিষ্ফোরক দ্রব্যে যেকোন সময় বিষ্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত তালিকাভুক্ত পরিবেশকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর তারা আবার খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সরাসরি গ্রামীণ জনপদের ভোক্তাদের কাছে এলপি গ্যাস সরবরাহ করে। সংশ্লিষ্ট পরিবেশক কোন আইনের বলে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ট্রাকযোগে পৌঁছে দেয় এটা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। এই ধরণের ব্যবসার সকল ক্ষেত্রেই বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস্ ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোন ক্ষেত্রে এলপি গ্যাস মজুত করা যাবে তা উল্লেখ আছে। একই বিধিতে ৭১ নং ধারায় বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বপক যন্ত্রপাতি রাখতে হবে। এই আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর ২ বছর এবং অনধিক ৫ বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। সেই মোতাবেক ১০টির কম গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। আইনের এই ফাঁক-ফোকরটিই কাজে লাগাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 

 

বদলগাছী উপজেলা সদরের মেসার্স নাবিল এণ্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধিকারী বদলগাছী কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সরদার মো: গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমার কাছে ৩/৪ টি গ্যাস সিলিন্ডার আছে এবং ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও আছে। কিন্তু যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে বিক্রয় করছে তাদের অবশ্যই বিস্ফোরকের লাইসেন্স থাকা উচিত।

রাজশাহী বিস্ফোরক অধিদপ্তর অফিসে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান বদলগাছীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স একজন ব্যবসায়ীরও নেই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়টি আমিও লক্ষ্য করেছি। প্রখর রোদে রাস্তার পাশে গ্যাস সিলিন্ডার গুলো বিপজ্জনকভাবে সাজানো থাকে। এ ব্যাপারে খুব দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন-২০০৩ এর ৪ ধারা মোতাবেক সরকার ঘোষিত ফায়ার সার্ভিসের কোন জ্বালানি নিয়ে কেউ ব্যবসা করলে তাকে ( মজুত প্রসেসিং প্রক্রিয়াকরণ এক্ট) বিধান অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্স করতে হবে। অন্যথায় ঐ আইনের ১৭ ও ১৮ ধারা মোতাবেক ৩ বছর কারাদন্ড সহ প্রতিষ্ঠান বা স্থানের মালামাল সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। 



২৯-০৫-২০১৯ ০৫:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190529171918.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative