সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

ভোলায় কেজি প্রতি মাছের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ২০০টাকা
নিউজরুম ০১-০৬-২০১৯ ০২:৪১ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Nov 13, 2019 10:16 PM

ভোলায় হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ ও মাংসের দাম। মাছ ও মাংমের দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন ক্রেতারা। গত এক সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রতিটি মাছের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইলিশ, চিংড়ি, কাতাল, চুলেল ডাডি, ছুড়া ও শিং মাছের দাম। তবে লেয়ার-কক মুগীর দাম স্থিতি থাকলেও গরু, খাশি ও দেশী মুরগির দাম বেড়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে মাছ ও মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামুগ্রী বিক্রি করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন ক্রেতারা।

 

তবে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় মাছ ও মাংসের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশী। বাজার মনিটরিংয়ের দাবী জানিয়েছে ক্রেতা সাধারন। তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে প্রশাসনের দাবী জানান।

বুধবার (২৯মে) দুপুরে ভোলা শহরের কাচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশী-বিদেশী প্রজাতির মাছের সমারোহ। বাজারে কই, ইলিশ, টেংড়া, রুই, কাতাল, পাঙ্গাস, চিংড়ি, পাপদা, ছুড়া ও পোয়া মাছ সহ বিভিন্ন মাছ বিক্রতোরা পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। সেখানের ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড়। কিন্তু হঠাৎ করেই মাছেল দাম আকাশচুম্বি হয়ে পড়েছে। এতে বাজারে মাছ কিনতে এসে হতবাক ক্রেতারা।

বড় সাইজের চিংড়ি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিলো ৪০০/৫৫০ টাকা। ইলিশ মাছের দাম বেড়েছে বহুগুনে। বড় সাইজের হালি প্রতি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা দরে। মাজারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের দেড় হাজার টাকা। 
১৫০ টাকার কেজি প্রতি পাঙ্গাসের পোনা ও বড় পাঙ্গাস এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। বাটা, রুই ও কাতাল মাছের দামও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রুই কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা, কাতাল বড় সাইজ ৮০০ টাকা, শিং ১ হাজার টাকা এবং চুলের ডাটি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ কিছুদিন আগেও কম ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের দাম। পোয়া মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এতে ক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাছ বিক্রেতা সোহেল ও মিন্টু বলেন, নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা, তাই পাইকারী আড়তে বেড়েছে মাছের দাম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বর্তমানে মাছেল অনেক চাহিদা কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম।

এদিকে মাছের সাথে বেড়েছে মাংসের দামও। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও মাংসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। কিছুটা দাম বাড়ায় ক্ষুদ্র ক্রেতারা। 
সরকার নির্ধারিত দামে দেশী মুগরী ৪৫০ টাকা হলেও বিক্রেতারা সে নিয়ম মানছেণ না। তারা কেজি প্রতি মুরগী বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা কেজি দরে। পোল্টি মুগরী ১৫০ টাকা নির্ধারন করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। তবে লেয়ার, পাকিস্তানি ও কক মুগরী ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব মুরগীর দাম স্থিতি রয়েছে।

গরুম মাংসের দাম ৫০০ টাকা নির্ধারন করা হলেও সেই নিয়মে বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। গরু মাংস ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা খাশির মাংসের দামেও। বর্তমানে প্রতি কেজি খাশির মাংম বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়াও চিনি, সয়াবিন, মুশরী ডাল, সোলা, পেয়াজ, রসুন, চিরাসহ বিভিন্ন পন্যের পাইকারী ও খুচরা দাম নির্ধারন করে দেয়া হলেও কিছু কিছু বিক্রেতা তার চেয়ে বেশী দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সামুগ্রী বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে ভোলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: মাহামুদুর রহমান জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিং হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বাজারে অভিযানে নামছেন। কিন্তু তারপরেও অভিযানের ফাঁকে কিছু অসাধু বিক্রেতা পন্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। আমরা সার্বক্ষনিক বাজার দর মনিটরিং করছি। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে পন্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



০১-০৬-২০১৯ ০২:৪১ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190601144117.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative