সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

ক্রিজে লুটিয়ে পড়া হিউজকে মনে পড়েছিল স্মিথের
নিউজরুম ২৯-০৮-২০১৯ ১২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Oct 19, 2019 02:47 AM

ঘাড়ে বাউন্সারের আঘাত। ক্রিজে লুটিয়ে পড়া। মাঠ থেকেই সোজা হাসপাতাল। এরপর লাখো সমর্থকের প্রার্থনা ম্লান করে না ফেরার দেশে চলে যান ফিল হিউজ। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান তরুণ এই ক্রিকেটারের অকালমৃত্যুতে ডুকরে কেঁদেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তাঁর আবেগ ছুঁয়ে যায় বিশ্বজুড়ে কোটি ক্রিকেটভক্তের হৃদয়। কে জানত পাঁচ বছর পর ফিল হিউজের যে জায়গায়টায় বাউন্সারের বিষাক্ত ছোবল লেগেছিল সেখানেই আঘাত পেয়ে বসবেন স্টিভেন স্মিথ। জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে তিনিও লুটিয়ে পড়েন লর্ডসের ক্রিজে। তবে ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন ট্র্যাজেডির শিকার হননি স্মিথ। ব্যথা নিয়ে নেমে পড়েন ব্যাট করতে, যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা হয়নি আর। এরপর মিস করেন হেডিংলি টেস্টও।

 

শঙ্কা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ফিরছেন চতুর্থ টেস্টে। আজ বৃহস্পতিবার ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন। ফেরার আগে জানালেন সেদিন সবার আগে ফিল হিউজের কথাই মনে হয়েছিল তাঁর, ‘তখন মাথায় কিছু জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছিল। বিশেষ করে যে জায়গায় বলটা আঘাত করেছিল। কয়েক বছর আগে কী ঘটেছিল (একই জায়গায় বল লেগে হিউজের মৃত্যু) নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটা ইঙ্গিত করছি। এটাই মাথায় এসেছিল সবার আগে। কিন্তু এরপর বুঝতে পারি আমি ঠিক আছি।

 

বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন স্মিথ। তখনই মুষড়ে পড়েননি একেবারে। প্রাথমিক কিছু নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা অনুমতি দেন ব্যাটিংয়ের। ফিরে এসে ব্যাট করেন স্মিথ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে আর নামেননি ব্যাট হাতে। আঘাত পাওয়ার পর ডাক্তারদের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘যখন ডাক্তাররা জানতে চাইছিলেন কেমন লাগছে, জবাবে বলি মনে হচ্ছে কাল রাতে ছয় বোতল বিয়ার খেয়ে ফেলেছি (ঝিমুনি লাগছে)। ক্রিকেটে এসব হয়ই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অসাধারণ টেস্টটা মিস করেছি আমি।

 

জোফ্রা আর্চারের বাউন্সার নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সাবেক তারকারা তো বটেই, দুই দলের খেলোয়াড়রাও কথা বলেছেন এ নিয়ে। বেন স্টোকস দেন আরো বেশি বাউন্সারের হুমকি। তাতে অস্ট্রেলিয়া ভয় পায় না বলে পাল্টা জবাব দিয়েছেন অধিনায়ক টিম পাইন। আর কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার সাফ জানান, ‘ইংল্যান্ডে এসেছি অ্যাশেজ জিততে, বাউন্সারের যুদ্ধ করতে নয়। কার কটা হেলমেট ভাঙল তা দিয়ে অ্যাশেজ জেতা যাবে না।’ এর পরও হেডিংলিতে বাউন্সার আছড়ে পড়েছে বেন স্টোকসের হেলমেটে। এটা টেস্টেরই অংশ। তাই স্টিভেন স্মিথ ফিরতে চান সাহসী হয়ে আর ব্যাটিং টেকনিকের কোনো কিছু বদল না করে, ‘আমি কোনো কিছু বদলাতে যাচ্ছি না। এই সিরিজে ৩৭৮ রান করার পর নতুন কিছুর দরকার নেই।

 

জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে কাবু হলেও এই তরুণ পেসারকে চ্যালেঞ্জও দিয়ে রাখলেন স্মিথ, ‘ও আমাকে হারিয়েছে বলে অনেক কথা হচ্ছে। আর্চার কিন্তু আমাকে আউট করতে পারেনি। লর্ডসের এমন এক উইকেটে আমার মাথায় আঘাত করেছিল যেখানে অসমান বাউন্স ছিল। আর্চার আমাকে আউট করতে পারেনি। বরং অন্যরা বেশি সফল আমার বিপক্ষে।’ বাউন্সারে আঘাত পাওয়ার পর এই অস্ত্রের ব্যবহার আরো বেশি হবে স্মিথের বিপক্ষে। তাতে কিছু যায় আসে না তাঁর, ‘ওরা যদি এভাবে (বাউন্সার) বল করে তাহলে বুঝতে হবে ওরা আমাকে নিক করাতে পারবে না, বা আমার প্যাডে বল লাগাতে পারবে না কিংবা আমার স্টাম্পেও না। ডিউক বল কেমন আচরণ করবে জানি না। দেখা যাক কী হয়।’ সূত্র : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া



২৯-০৮-২০১৯ ১২:৪৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190829124816.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative