সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

এমপিওভুক্ত হলো ভুয়া ঠিকানায় প্রতিষ্ঠিত বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ
নিউজরুম ১৮-১১-২০১৯ ০২:৪৯ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Jan 22, 2020 04:38 AM

কাজিপুর প্রতিনিধি:  ভুয়া ঠিকানায় প্রতিষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি নিময় বহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্তিকরণের অভিযোগ উঠেছে। একই ক্যাম্পাসে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই এমপিওভুক্ত করানো হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে বাগবাটি মডেল গার্লস এন্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো ও স্থাপনা রয়েছে। তবে একই ভবন ও স্থাপনা ব্যবহার করেই চালানো হচ্ছে বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজটি।  


স্থানীয়রা জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এমপিওভুক্ত হওয়ার যোগ্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো না করে নিজস্ব জায়গা নেই, কিংবা অবকাঠামো না থাকলেও নামসর্বস্ব ‘বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ’ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন এমপিও বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা। 


সরেজমিনে জানা যায়, ২০০২ সালে সদর উপজেলার চর নান্দিনা গ্রামে বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছিল। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এশারত আলী নিজ স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে কৌশলে রাতের আঁধারে সকল কাগজপত্র নিয়ে ৮ কিলোমিটার দূরে পিপুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। পরবর্তীতে সেটি বাগবাটি মডেল গার্লস এন্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের একটি ভবনে স্থানান্তর করে নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসে। 


চর নান্দিনা গ্রামে প্রতিষ্ঠানের ঘরসহ সকল আসবাবপত্র থাকলেও এশারত আলী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ফলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্ব-স্থানে ফিরিয়ে নিতে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন চর নান্দিনা গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারি কমিশনার টিনা পাল তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে ওই প্রতিষ্ঠানটি স্ব-স্থানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কারিগরি শিক্ষা বিভাগকে সুপারিশও করা হয়। 


তারপরও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাইনবোর্ড সর্বস্ব অবস্থায় অপর একটি প্রতিষ্ঠানের ভবনে চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিরাজগঞ্জের ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটিকেও এমপিওভুক্ত করেছে। 


এ প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গেলে একই ভবনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড দেখা যায়। এর মধ্যে বাগবাটি মডেল গার্লস এন্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, মডেল রেসিডিন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ও বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ। এর মধ্যে মডেল রেসিডিন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ বাদে বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান তিনটি হলেও একটি অফিসেই চলছে সবগুলোর কার্যক্রম। 


এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কোন শিক্ষকই তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে বাগবাটি মডেল গার্লস এন্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকল তথ্য কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এশারত আলীর কাছে রয়েছে। 


বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এশারত আলী এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি এ প্রতিবেদককে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। 
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্লাহ বলেন, এমপিওভুক্তির আবেদন সরাসরি করা হয়েছে। আবেদনের আগে বা পর জেলা থেকে খোঁজখবর নেয়ার সুযোগ ছিল না। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



১৮-১১-২০১৯ ০২:৪৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20191118144958.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative