কাজিপুরে জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে দুর্নীতিঃ অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:১৯ অপরাহ্ন


  

  • কাজিপুর/ অপরাধ:

    কাজিপুরে জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে দুর্নীতিঃ অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
    ১২ জুলাই, ২০১৯ ০৪:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    কাজিপুর প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় অধীনে “জমি আছে ঘর নেই” নামের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দুইশ ১৬টি ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছেবলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগের তীর সরাসরি কাজিপুরের সাবেক ইউএনও ও বর্তমানে জেলার স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালকের শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।  ঘর না পেয়ে সুবিধাভোগী অসহায় মানুষগুলো পড়েছেন চরম বিপাকে। আর কাজিপুরে এমন দুর্নীতি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না জন স্থানীয় ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ। 

    যমুনার করাল থাবায় বারবার ক্ষতবিক্ষত কাজিপুর উপজেলার অসহায় মানুষদের একটু মাথা গোজার ঠাঁই দিতে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় হতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “জমি আছে ঘর নেই” প্রকল্পের আওতায় দুইশ ১৬টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ হয় ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম টেন্ডার আহবান না করে নিজেই ঘরগুলো নির্মান করার জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি প্রকল্পের সভাপতি আর উপজেলা বাস্তবায় কর্মকর্তা (পিআইও) সদস্য সচিব ও ক’জন সরকারী কর্মকর্তাকে সদস্য করে ঘর নির্মানের কাজ শুরু করেন। নি¤œ মানের কাঠ টিন আর ইট সিমেন্ট দিয়ে কিছু ঘর নির্মাণ করলেও সিংহভাগ ঘরের খুঁটি লাগিয়ে রাজমিস্ত্রি ও কাঠ ব্যবসায়ীদের বিল বকেয়া রেখে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি সকল টাকা উত্তোলন করেন। এরপর শফিকুল ইসলাম এই জেলার স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক হিসেবে যোদ দেন।
     স্থানীয় ভুক্তভোগীগণ বিভিন্ন ভাবে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘর নির্মাণ করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়ে তাদের বিদায় করেন। অবশেষে গতমাসে সকল ইউপি চেয়ারম্যানগণ প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেন। জেলা প্রশাসক জেলা পরিষদের সচিবকে দায়িত্ব দিলে তিনি একদিন মাঠে তদন্ত করে অন্যত্র বদলী হয়ে যান। 
     এরপর আর কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এদিকে বৃষ্টি আর প্রচন্ড রোদে অসহায় গরিব মানুষগুলোর মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় চরম বিপাকে রয়েছে তারা।  ভুক্তভোগী আশরাফ আলী জানান, গত ৬ মাস আগে ঘর তৈরী করার জন্য খুঁটি পুতে গেছে কিন্তু ঘর দেয়নি। আরেক ভুক্তভোগী আবুল কাসেম জানান, গত ৮ মাস আগে ঘর দেবার নাম করে নামে মাত্র খুঁটি আর ল্যাট্টিনের পাট রেখে চলে যায়। আজ অবধি তাদের আর দেখা মেলেনি।   

    এদিকে পাওনা টাকার জন্য স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালকের কাছে গেলে দূর্ব্যাবহার করে তাড়িয়ে দেয় বলে জানালেন কাঠ মিস্ত্রি আর কাঠ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা দিলেও বাকি টাকা এখনো পাইনি। তাছাড়া আমার কাছ থেকে কেনা কাঠেরও সন্ধান মিলছে না। 
    কাজিপুর উপজেলার ৬ নং মাইজবাড়ি ইউপি চেয়াম্যান শওকত হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নে ১৭টি ঘর বরাদ্দ থাকলেও পেয়েছি মোটে ৫টি । ২টি ঘর নাম মাত্র আছে। বাকি ঘর গুলোর কোন নাম হদিস নেই। তিনি আরো জানান, প্রকল্পে চেয়ারম্যানদের সংশ্লিষ্টতা থাকার বিধান থাকলেও সাবেক ইউএনও তা রাখেননি । 
    চালতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি চেয়াম্যান আতিকুর রহমান মুকুল জানান, এসকল বিষয়ে  ইউএনও কাছে জানতে চাইলে তিনি হুমকি ধামকি দিতেন। আমার এখানে ১১ টি ঘর বানানোর কথা থাকলেও নি¤œ মানের ৯ টি ঘর করা হয়। আর বাকিগুলোর শুধু খুঁটি আছে ঘর নেই। 


    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, আমি সদস্য সচিব কি না তা জানিনা । তবে এ ব্যাপারে আমি কোন কথা বলতে পারবো না।  

    বিষয়টি জানতে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে বার বার গেলেও তার দেখা মেলেনি। এমনকি মুঠো ফোনেও কথা বলতে রাজি নন সাবেক ইউএনও ও বর্তমানে জেলার স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
    সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফিরোজ মাহমুদ জানান, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় হতে একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এখন নতুন কাউকে আবার দায়িত্ব দেয়া হবে। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,কাজিপুর ১২ জুলাই, ২০১৯ ০৪:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 222 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    কাজিপুর অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11018632
    ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:১৯ অপরাহ্ন