লালমনিরহাটে বন্যায় ৩৪ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৫ অপরাহ্ন


  

  • উত্তরবঙ্গ/ জনদুর্ভোগ:

    লালমনিরহাটে বন্যায় ৩৪ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ
    ১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৬:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বন্যার পানিতে শ্রেণিকক্ষ ডুবে যাওয়ায় ৩৪টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

     

    শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সে. মি) বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

     

    এর আগে শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ৩৫ সে. মি. ও রাত ৯টায় ৪৪ সে. মিটার এবং মধ্যরাতে আরো বেড়ে গিয়ে শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে কমতে শুরু করে পানি প্রবাহ। যা বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

     

    শুক্রবার (১২ জুলাই) দিনগত মধ্যরাতে পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী তালেব মোড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে হাতীবান্ধা উপজেলা শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। বন্যায় প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানিববন্দির সংখ্যা।

     

    ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ওই ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে বলে দাবি করেছে ডালিয়া ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

     

    স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ছয় দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় প্রায় ২০/২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌকা বা ভেলা ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষের। নৌকা পর্যাপ্ত না থাকায় চলাচলে বেশ সমস্যায় পড়েছে তারা। ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। এতে বড় সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা।

     

    এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার সকাল পর্যন্ত তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যাও বেড়েছে।

     

    পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। আদিতমারীর তিস্তার তীরবর্তী মহিষখোচা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি কুটিরপাড়, রজবপাড়া, অংশে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই এলাকার কুটিরপাড় বালুর বাঁধ ও স্প্যার বাঁধ দু’টি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে বলে স্থানীয়রা শঙ্কিত। বন্যায় ভেসে যাচ্ছে শত শত পুকুরের মাছ। নষ্ট হয়েছে চাষিদের বাদাম, ভুট্টা ও সবজিসহ নানান ফসল। পানি প্রবাহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ।

     

    পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬টি ও উচ্চ বিদ্যালয় ৮টি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে বন্যার্তরা আশ্রয় নেওয়ায় সেখানেও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। 

     

    লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি। 

     

    জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান বলেন, জেলার ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলে বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

     

    দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুরের পর থেকে কমতে শুরু করে। বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজে পানি প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করায় ক্রমেই বাড়েছে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ।

    নিউজরুম ১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৬:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 264 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    উত্তরবঙ্গ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12267945
    ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৬ অপরাহ্ন