তাড়াশে খাল পূন:খনন প্রকল্প:অধিকাংশ কাজ না করেই বিল উত্তোলন,কোটি টাকা লুটপাট
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০৮ অপরাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ অপরাধ:

    তাড়াশে খাল পূন:খনন প্রকল্প:অধিকাংশ কাজ না করেই বিল উত্তোলন,কোটি টাকা লুটপাট
    ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৪৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের নাম বিদ্যাধর খাল ও কুন্দইলের খাল। উল্লেখিত দুটি খাল দিয়ে বৃহত্তর চলনবিলের উত্তর-পূর্ব এলাকার অধিকাংশ পানি নিষ্কাষণ হয়ে থাকে। সরকারি ভাবে কয়েক বছর আগে এ দুটি খাল খনন করা হয়েছিল। তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ বছর ও সরকার খাল দুটি পূন:খননের কর্মসূচি হাতে নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে বর্ষা মৌসুমে পানি থাকায়, খালের তলদেশে কাজ না করে দু’পাড় ছেঁটে সৌন্দর্য বর্ধন করে বিল তুলে নেয়া হয়েছে। চলনবিল অধ্যূষিত এ উপজেলায় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে উজানের ঢল গড়া পানি এসে খাল ভরে যায়। আর এসময়ই কথিত ঠিকাদাররা দায়সারা ভাবে কাজ করে সংশ্লিষ্ট অফিসকে ম্যানেজ করে বিল তুলে নেয়। এবছর ও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি ।
    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ২৯ লাখ তিনহাজার ৭৪ টাকা ব্যয়ে  তাড়াশ উপজেলায় দুটি প্রকল্প বরাদ্ধ দেয়া হয়। প্রকল্প দুটির একটি হচ্ছে‘মহিষলুটি-বড়বিল’ উপ প্রকল্পের খালপূন: খনন প্রকল্প। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি তিনলাখ ৭৫হাজার চার শ ২৪টাকা। খালটির খননের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার,ছয় শ ১৫মিটার। অপর প্রকল্পটি হচ্ছে ‘হাঁড়িশোনা-কুন্দইল বিল’ উপ প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ লাখ সাতহাজার ছয়শ ৫০টাকা। খননের দৈর্ঘ্য ধরা চার হাজার সাতশ মিটার। প্রকল্প দুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক ইউনিয়ন পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাড়াশ এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, মহিষলুটি-বড়বিল উপ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ২২ টিএলসিএস কমিটি দ্বারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৮৫০ হেক্টর জমিতে পানি সেচ দেয়া যাবে, হাঁস ও মাছ চাষ করে ৯৫৮ টি পরিবার উপকৃত হবে ।
    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ প্রকল্পের সার্বিক উদ্দেশ্যই হচ্ছে টেকসই কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাধ্যমে সরকারের দারিদ্র হ্রাসকরণ উদ্যোগ কে সহায়তাকরা। দরিদ্র জনগোষ্ঠি কে বিশেষ বিবেচনায় রেখে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ প্রকল্প এলাকার সকল শ্রেণি পেশার জনগণের দ্বারা এই  প্রকল্প পরিচালিত হবে। একটি টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রচলন করাই হচ্ছে এ প্রকল্পের লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি- এমনটি অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মন্টু তার মনোনীত লোকজন দিয়ে এলসিএস কমিটি গঠন করেছেন। শ্রমিকের পরিবতে কাজ করা হয়েছে খননযন্ত্র (এক্্রাভেটর) দিয়ে। অথচ শতকরা ২০ ভাগ কাজ করার বিধান রয়েছে শ্রমিক দিয়ে। দ্রুততম সময়ে খালের দুপাড় ছেটে খাল খননের কাজ শেষ করা হয়েছে।
    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ জুন ফাইনালে বিল তুলে নিতেই যেনতেন ভাবে কাজের সমাপ্তি দেখানো হয়েছে। অথচ প্রকল্পের ডিজাইন আছে খালের গভীরে দুইফুট খনন করতে হবে । নীচের বেড হবে ১৫ ফুট। কিন্তু খালে পানি থাকায় তলদেশে কোন কাজই হয়নি। বাঁশের সাঁকো ও মাঠের পানি নামার জন্য পাইপ দেয়ার কথা থাকলেও কোথাও তা দেখা যায়নি । এলসিএস কমিটি নামে থাকলে ও বাস্তবে কাজ করেছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, এলসিএস কমিটির অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের নিয়মানুযায়ি সমিতির একটি কার্যালয় থাকার কথা থাকলে ও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব চোখে পড়েনি ।
    এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মন্টুর সাথে যোগাযোগ করা তিনি বলেন আমি সমিতির সভাপতি হলে ও মুলত কাজটি করছে মোজাম্মেল নামের এক ঠিকাদার কাজের বিষয়ে কিছু বলতে পারবনা। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ সহকারি প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন (বর্তমানে অবসরে আছেন) জানান, কাজ বুঝে নেয়ার চেষ্টা করেছি । কোথাও ভুলত্রুটি থাকলে কর্তৃপক্ষ দেখবেন। কিন্তু তার এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি এলাকাবাসী। তারা জানান, মূলত: ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই প্রকল্পের টাকা হরিলুট হয়েছে।
    অপরদিকে হাড়িসোনা-কুন্দইল প্রকল্পের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। এ প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন রওশনআরা। তিনি এলাকার বাইরে অবস্থান করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চৌবাড়িয়া পয়েন্টে ব্রিজের দক্ষিণ পাশে কাজ হয়েছে অথচ উত্তরপাশে কোন প্রকার কাজই হয়নি। এ চিত্র পুরো প্রকল্প এলাকাজুড়ে।  অথচ ৮০ ভাগবিল ইতোমধ্যেই তুলে নেয়া হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ আলী কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন পরিমাপ করেই বিল দেয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম হয়ে  থাকলে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে পরিদর্শন কবে হবে অথবা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন ।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৪৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 649 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12249138
    ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০৮ অপরাহ্ন