সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাট পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা
২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০৪:২৮ অপরাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ অন্যান্য:

    সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাট পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা
    ০৬ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    সোহাগ হাসান জয়ঃসিরাজগঞ্জ  পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের হাটগুলোতে প্রচুর গরু ছাগল উঠেছে। জেলার ৯টি উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৪৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ৪০৬টি গরু, ৪৭ হাজার ৬১৭টি ছাগল এবং বাকিগুলো ভেড়া ও মহিষ। এসব পশু দেশীয় দানাদার ও প্রাকৃতিক খাবার দেয়া হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক বন্যা এ কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সবকিছু মনিটরিং করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

     


    জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, উল্লাপড়া, বেলকুচি, চৌহালী, তাড়াশ, রায়গঞ্জসহ ৯ উপজেলায় এ বছর কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সোয়া লাখ গবাদিপশু। কিন্তু প্রতি বছরের মতো এ বছরও জেলায় অতিমাত্রায় দেশীয় গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ চলছে। এবারও এসব দেশীয় পশু জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে। খামারিরা গাভী পরিচর্যার পাশাপাশি ষাঁড়ের পরিচর্যাও করছেন। তবে গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশু মোটাতাজা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের। অবশ্য তাদের আশা-মোটাতাজাকরণে খরচ যত বেশিই হোক, কোরবানির হাটগুলোয় যদি শেষ পর্যন্ত বিদেশি পশু স্থান না পায় তাহলে তারা লাভের মুখ দেখবেন।
    কৃষক ও খামারীরা ন্যায্য মুল্য পেলে আগামী আরো বেশী গরু লালন-পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবে তারা। আর ভারতীয় গরু যাতে অবৈধপথে দেশে না আসতে পারে সে জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


    হাটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা,উল্লাপাড়া বোয়ালিয়া, সিরাজগঞ্জ সদর কালিয়া কান্দা পাড়া, মালসা পাড়াসহ বিভিন্ন হাটে ছোট-বড় প্রচুর পরিমাণ কোরবানীর গরু উঠেছে। সলঙ্গা হাটটিতে সাধারণ প্রতি সোমবার গরু-ছাগল-মহিষও ভেরা বিক্রি হয়। জেলার সুনামধন্য হাট হওয়ায় হাটে ক্রেতার সংখ্যা বরাবরও বেশী থাকে। সলঙ্গা  প্রতি হাটে প্রায় ৭-৮ হাজার গরু ওঠে।  হাটে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে টাকার গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যন্ত গরু ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। তবে কিছু গরুর ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাম হাকাচ্ছে বিক্রেতারা। তবে গ্রাহকদের চাহিদা সবচেয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দামের গরুর প্রতি।

     

    ছাগলের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। হাটে পোশাক পরিহিত পুলিশসহ সাদা পোশাকে ও গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে। হাটটিতে ক্রেতারা কোন দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি কৃষক ও খামারীদের কাছ থেকে তাদের চাহিদা মোতাবেক কোরবানীর পশু কিনছেন। তবে এখনো হাটে ভারতীয় গরু না ওঠায় বিক্রেতারা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন।  
    তাড়াশ উপজেলার মাধবপুর গ্রামের ফজলার রহমান খান, সলঙ্গা থানার চড়িয়া উজির গ্রামের বাবলু সরকার, থানার মালতি নগড় গ্রামের আব্দুর করিমসহ কয়েকজন গরু বিক্রেতা জানান, দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি গত ৪ মাস আগে যে কোন গরুর দাম থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এবার আমাদের একটু লাভ বেশি হচ্ছে। তবে বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতা কম থাকায় এখন র্পযন্ত বিক্রি একটু কম হচ্ছে।


    পাবনার মির্জাপুর উপজেলার চয়ড়া গ্রামের রানা মাসুদ, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মাকিদয়িার গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, ক্ষুদ্র শিমলা আব্দুস সালাম আকন্দসহ কয়েক জন ছাগল বিক্রেতা জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা থেকে এই হাটে ছাগল ক্রয় করে নিয়ে যায়। এবছর ব্যাপারীরা একটু কম আশায় ছাগল বিক্রিয় কম হচ্ছে। তবে ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ থাকায় সরকারী অফিস ছুটি না হওয়ায় এখন র্পযন্ত ছাগল বিক্রি একটু কম হচ্ছে। হাটে প্রতি ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা। 


    সলঙ্গা হাট ইজাদার জাহাঙ্গীর আলম লাবু জানান, হাটের পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ক্রেতাদের চাহিদার মধ্যে খামারে বা বাড়িতে পোষা গরুই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পশু আমদানির ওপর দাম নির্ভর করলেও এ বছর সব ধরনের পশুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে। এ ছাড়া এবারের কোরবানিতে দেশীয় গরুর কদর থাকবে বলে মনে করছেন সকলেই। তিনি আরো বলেন, এবারের ঈদে বিভিন্ন এলাকার খামার ও গৃহস্থদের বাড়ির গরু তাদের হাটে প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্য বছরের মতো এবারে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা খামারের সংখ্যাও কম নয়। তবে বিভিন্ন গ্রামের গৃহস্থদের বাড়িতে বাড়িতে ৩-৪ টি দেশীয় গরুর পালন করেছেন অনেকে। আর ওই সব গরু এবারের কোরবানির ঈদের ক্রেতাদের হবে প্রধান টার্গেট।


    অতিরিক্ত পুলিশ সুপরি সিন্ধ আক্তার জানান, কোরবানীর পশুর হাটগুলোতে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জালনোট শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অজ্ঞান পার্টি ও দালাল মুক্ত করার জন্য পোশাকধারী পুলিশসহ সাদা পোশাকে ও গোয়েন্দার মাধ্যামে থানা এলাকায় প্রতিটি পশুর হাটে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ০৬ আগস্ট, ২০১৯ ০৬:০৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 262 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট

    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11098444
    ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০৪:২৮ অপরাহ্ন