অস্ত্রের মুখে রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’ কার্ড দিচ্ছে মিয়ানমার
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন


  

  • আন্তর্জাতিক/ অপরাধ:

    অস্ত্রের মুখে রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’ কার্ড দিচ্ছে মিয়ানমার
    ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত

    রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলিমদের অস্ত্রের মুখে বিদেশি হিসেবে পরিচয়পত্র নিতে বাধ্য করছে মিয়ানমার সরকার। মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই গ্রুপের বরাতে মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গাদের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন বন্দিশালায় রাখা, শারীরিক অত্যাচার, এমনকি বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তারা।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নামে এই পরিচয়পত্র জোরপূর্বক গছিয়ে দেয়ার চেষ্টার খবর রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য বিশ্বজুড়ে নিন্দিত মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াবে। ফর্টিফাই গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, ‘কার্যকরভাবে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল এবং এনভিসি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অজুহাত দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধও আরোপ করেছিল।’

    জোর করে পরিচয়পত্র গছানোর অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ তাইয়ের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুন তুন নাই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাউকে বন্দুকের মুখে বা নির্যাতনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র নিতে বাধ্য করা হচ্ছে না। টেলিফোনে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি সত্য নয় এবং তাই আমার আর কিছু বলার নেই।’

    বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের সরকার ‘বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ’ বলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যদিও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক শ বছর থেকে বাস করে আসছেন রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণসহ নানা অত্যাচার শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। দুই দফায় তাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় কেউ ফিরতে রাজি হয়নি।

    জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বলছে, ২০১৭ সালে রাখাইনে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল তাতে ‘গণহত্যার ইচ্ছা’ ছিল। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ আরও পাঁচ জেনারেলকে ‘নৃশংসতম অপরাধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায়’ আনার সুপারিশ করে তারা। এ অবস্থায় গত মাসে মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত করে তাদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণাও দেন তিনি।

    কিন্তু সেনা তত্ত্বাবধানে ওই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হবে না বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা।

    এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তদন্ত চালানো জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমকর্তারা বলছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা পুরুষদের বন্দিশালায় যোগাযোগবিচ্ছিন্নভাবে আটকে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিচারবহির্ভূতভাবে বন্দিদের হত্যা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    জাতিসংঘের জেনেভা অফিসে সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের অত্যাচার বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এসব অত্যাচারের স্বাধীন তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।

    মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ায় বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একবিংশ শতাব্দীতে জাতিগত নিধনের নিকৃষ্টতম উদাহরণ। রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে ‘ভুল বোঝানো হয়েছিল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ডেস্ক রিপোর্টঃ ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 72 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    11376710
    ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন