খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত চলনবিল এলাকার গাছিরা
২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন


  

  • তাড়াশ/ কৃষি ও খাদ্য:

    খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত চলনবিল এলাকার গাছিরা
    ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    আশরাফুল ইসলাম রনি:
    প্রকৃতিতে শীতের আগমন বার্তা জানান দিচ্ছে। বাঙালির শীতের দিনের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েস। প্রাচীন কাল থেকে সিরাজগঞ্জ তথা চলনবিল এলাকার খেজুর রসের যশ ছিল। 'দিন বদলের সাথে এ এলাকা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ এবং গুড়-পাটালি তৈরির পদ্ধতি।
    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাসহ বিভিন্ন গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ তোলা চাচার কাজ শুরু করেছে। অল্প দিনের মধ্যে বাজারে নতুন খেজুর গুড়-পাটালি পাওয়া যাবে।
    গ্রাম-বাংলায় এখন চোখে পড়ছে খেজুর গাছ তোলা-চাচার দৃশ্য। গাছিরা এখন মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিছুদিন পরই গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব।  গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধ্যায় কাঁচা রস খেতে খুবই মজাদার। রসে ভেজা কাচি পোড়া পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। নলেন, ঝোলা ও দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন অর্ধ ভোজন। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই। নলেন গুড় পাটালির মধ্যে নারিকেল কোরা, তিল ভাজা মিশালে আরো সুস্বাদু লাগে। শীত মৌসুমে যা তৈরি হয় তা রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। আবাহমান কাল থেকে তাই বাংলায় নবান্নের উৎসব পালনে খেজুর গুড়ের কদর বেশি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে গাছিরা গাছ পরিষ্কার বা তোলা চাচার উপকরণ গাছি দা, দড়ি তৈরি সহ ভাঁড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো জায়গা ঠিক করা সহ বিভিন্ন কাজে রয়েছে ব্যতিব্যস্ত।
    এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে। চলনবিল এলাকায় শীত একটু আগেভাগেই কড়া নাড়ছে। তাই গাছিরাও খেজুর গাছের ডাল-পালা পরিস্কার করে গাছ তোলাসহ যাবতীয় কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ১০/১৫ দির পরেই রস গুড়, পাটালি পাওয়া যাবে এ অঞ্চলে।
    স্থানীয় গাছী হাবিবুর রহমান জানান, শীতের আগমনী বার্তা দরজায় কড়া নাড়ছে তাই প্রতিবছররে মত এবছরও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছিরা চলনবিল এলাকায় এসে গাছ মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা প্রথমে খেজুর গাছের মাথা  পরিষ্কার করেন। এরপর শুরু হয় রস সংগ্রহ। চিরাচরিত সনাতন পদ্ধতিতে মাটির কলসে রাতভর রস সংগ্রহ করা হয়। ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রস ভর্তি মাটির কলস গাছ থেকে নামিয়ে পরে মাটির হাড়িতে কিংবা টিনের বড় হাড়িতে জ্বালিয়ে গুড়-পাটালি তৈরি করে।
    তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কাস্তা ও সেরাজপুর গ্রামে দশজনের একটি গাছির দল এসেছেন রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও নাটোর এলাকা থেকে।
    বাঘা এলাকার গাছী মোতালেব হোসেন জানান, গাছ কাটা, রস জ্বালানো ও গুড়, পাটালি তৈরির উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার গত বছরের তুলনায় গুড়-পাটালির দাম দ্বিগুণ হবে। এবছর তারা এলাকায় ১৭৫ টি গাছ মালিকদের সাড়ে তিন কেজি করে গুড় দেয়ার মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ করেছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম লুৎফুন নাহার লুনা বলেন, তাড়াশ উপজেলাসহ চলনবিল এলাকা খেজুর রস খুব মিষ্টি মধুর, তাছাড়া রস থেকে খেজুরের পাটালী গুড় তৈরি করা হয়। যা দিয়ে চলনবিলাঞ্চলের জনপদের মানুষ বিভিন্ন পিঠাপুলি তৈরি করে থাকেন।

     

    স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, তাড়াশ ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 114 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    তাড়াশ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12092213
    ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন