ফেসবুকে ভুয়া ছবি দিয়ে তারেকের ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদ !
২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন


  

  • সিরাজগঞ্জ/ অপরাধ:

    ফেসবুকে ভুয়া ছবি দিয়ে তারেকের ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদ !
    ০২ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তারা শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হচ্ছেন।এ জন্য কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে অপমানিত ও লজ্জিত হচ্ছেন। মূলত প্রতারক চক্রইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী সহজ-সরল ক্রেতা, প্রযুক্তি সম্পর্কে অসচেতন ব্যক্তি,দরিদ্র এবং নারীদের সহজেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। সাধারণত কোনো পর্নো ছবির নায়িকার দেহের সঙ্গে একটি নারীর চেহারা জুড়ে দিয়ে এমন ছবি তৈরি করা হয়। পরে এই ছবি আপলোড করার হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হয়। কিছুক্ষেত্রে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হলে প্রতিশোধ নিতে এবং বিকৃত আনন্দ পেতে বখাটেরা এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কাজ করে। ফেসবুকে তার নাম তারেক। মেয়েদের সাথে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে তারপর ইমো এবং ম্যাসেন্জারে ভিডিও কল করে এবং স্ক্রিনশর্ট রেখে দেয় এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাহানায় খোলামেলা ছবি চেয়ে নেন এই প্রতারক । ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয়দানকারী তারেক আকন্দ নামে এই যুবক দীর্ঘদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রথমত প্রেম ও পরে বিয়ের প্রলোভন ও ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন তরুণীদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কেস স্টাডি-১ সিলেটের মেয়ে রুনা । চার মাস আগে ফেসবুকে তারেকর সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে প্রথমে তাদের মাঝে প্রেম ও পরে তারেক তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তারেক মেয়েটিকে জানায় যে, সৌদি আরব প্রবাসে থাকায় বাংলাদেশে তার ০৬টি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে আছে যে কারণে তার কাছে কোন নগদ টাকা নেই, মেয়েটির কাছে ২০ হাজার টাকা দাবী করে বলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত ও চোখে প্রাপ্ত জখমের উন্নত চিকিৎসার জন্য তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। মেয়েটি টাকা দিতে না পারায় প্রতারক তারেক মেয়েটির ছবি চেয়ে নিয়ে পরে ফেসবুকে ফটোশপের মাধ্যমে মেয়েটির ছবির সঙ্গে আরেকজনের অশ্লীল ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় । এরূপ প্রতারণামূলক ছলচাতুরির মাধ্যমে প্রতারক তারেক উক্ত তরুণীর কাছ থেকে তিন ধাপে এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভূয়া ছবি দিয়ে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক ।এরপর ফটোশপের মাধ্যমে মেয়েদের ছবির সঙ্গে আরেকজনের অশ্লীল ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতায় সৌদি প্রবাসী তারেক আকন্দ নামের এই প্রতারক । কেস স্টাডি-২ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য প্রতারক তারেকর সাথে যোগাযোগ হয় চ্যানেল সিক্স এই প্রতিবেদকের সাথে। পরিচয়ের সুবাদে প্রেম ও পরে বিবাহের প্রস্তাব দেয় দেয় এই প্রতিবেদক কে ।এক পর্যায়ে তারেক এই প্রতিবেদকে ১০ হাজার টাকা চেয়ে বলেন তার ব্যাংকে বেতন আটকা পড়ে আছেন ১০ লাখ। তুলতে ৩/৪ দিন সময় লাগবে । এই প্রতিবেদক টাকা দিতে অস্বিকার করায়,ফেসবুকে ফটোশপের মাধ্যমে এই প্রতিবেদকের ছবির সঙ্গে আরেকজনের অশ্লীল ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারেকের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা কয়েকজন মেয়েদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তারেক মেয়েদের একান্ত ব্যক্তিগত ছবি চেয়ে নিয়ে পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করছে এই প্রতারক । সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এতদিন বিদেশে বসে ‘গুজব’ ও মানহানিকর তথ্য রটনাকারীদের বিশ্বাস ছিল, তাদের কিছুই হবে না। এখন থেকে গুজব ছড়ালেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম বিদেশে অবস্থানকারী গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘গুজব’ ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের দায়ে সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার কয়েকজন প্রবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সংখ্যা কমপক্ষে ১২। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, র‌্যাবের সকল ব্যাটালিয়নে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরে এর কার্যক্রম রয়েছে। গুজব ও উসকানি বন্ধে এই বাহিনীর কারিগরি সক্ষমতা এবং দক্ষতাও রয়েছে। যাদের এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিআইডি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে এরই মধ্যে সিআইডি সাইবার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। এর জনবল কাঠামোয় রয়েছেন ৩৪২ জন। বর্তমানে সেখানে কাজ করছেন ৫২ জন। অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, ওমান, কাতার থেকে বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে এমন কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। এ ছাড়াও দেশে বসে গুজব ছড়াচ্ছে এমন কয়েকজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে তুহিন শেখ, আবদুর রহমান প্রমুখকে।
    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ০২ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে এবং 270 বার দেখা হয়েছে।
    পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
    Expo
    Slide background EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech EduTech
    Slide background SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech SaleTech EduTech
    সিরাজগঞ্জ অন্যান্য খবরসমুহ
    সর্বশেষ আপডেট
    নিউজ আর্কাইভ
    ফেসবুকে সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ
    বিজ্ঞাপন
    সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ ফোকাস
    • সর্বাধিক পঠিত
    • সর্বশেষ প্রকাশিত
    বিজ্ঞাপন

    ভিজিটর সংখ্যা
    12081754
    ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন