সিরাজগঞ্জ কণ্ঠঃ সিরাজগঞ্জের সব খবর, সবার আগেঃ SirajganjKantho.com

www.SirajganjKantho.com

বেলকুচির রাজনীতিতে সরব যুবলীগ নেতা রেজা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৫-০৫-২০১৯ ০২:২০ অপরাহ্ন প্রকাশিতঃ প্রিন্ট সময়কাল Sep 20, 2019 06:18 AM
জহুরুল ইসলামঃ সাজ্জাদুল হক রেজা। বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক। নিজের সুবিধার জন্য সে সব কিছুই করতে পারে। তার রোষানল থেকে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ব্যবসায়ী ও দলীয় নেতাকর্মী কেউ বাদ পড়েনি। সর্বশেষ আক্রান্ত হয়েছেন ইউএনও। সরকারী ধান সংগ্রহে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশালীন আচরণের অভিযোগে বেলকুচির ইউএনও এস,এম সাইফুর রহমান নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা, পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি আরমান হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন , যুবলীগ নেতা রিপন, সাইফুল, জহুরুল এবং সোহাগসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর র‌্যাব ও পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালালেও গত ৩দিনে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। যেভাবে রেজা’র উত্থান আপন বড় ভাই নুরুল ইসলাম সাজেদুল আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের মেয়েকে বিয়ে করার পর থেকেই বিশ্বাস পরিবারের সাথে সাজ্জাদুল হক রেজা’র সখ্যতা গড়ে উঠে। তাঐ আর মাঐ এর ছত্রছায়ায় দলের পদ পদবী পেতে থাকে রেজা। দীর্ঘদিন এক সাথে উপজেলা ছাত্রলীগ আর যুবলীগের আহবায়কের পদ নিজের দখলে রাখেন। মাঝখানে ছাত্রলীগের পদ ছাড়লেও রয়েছেন যুবলীগে। আওয়ামীলীগ ৩য় বার সরকার গঠনের প্রথম বার আব্দুল লতিফ বিশ্বাস মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী পত্নী আশানুর বিশ্বাস প্রথমে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, পরে পৌর মেয়র। আর পুত্রা রেজা ছিল তাদের একমাত্র সিপাহশালা। মাঠপর্যায়ের দলের অনেক কিছুই তখন রেজা নিয়ন্ত্রন করতো। বর্তমান সরকারের ২য় মেয়াদে বেলকুচি-চৌহালী আসনে মনোনয়ন পান শিল্পপতি আব্দুল মজিদ মন্ডল। বাদ পড়েন আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। এ অবস্থায়ও প্রায় আড়াই বছর রেজা তার তাঐ লতিফ বিশ্বাসের সাথেই ছিলেন। সে সময়ের এমপি মজিদ মন্ডলের গাড়ি ভাংচুর ও দলের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন রেজা। একপর্যায়ে এমপি মজিদ মন্ডলের সাথে রেজা’র সখ্যতা গড়ে উঠে। তাই তাঐ আর মাঐ এর ভালবাসা ভূলে গিয়ে তাদের সাথে দ্বন্ধে জড়াতে থাকে রেজা। তার নেতৃত্বেই পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাসের উপরে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলে রেজাকে হাজতও খাটতে হয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে এসে রেজা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে তার তাঐ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে যেতে বাধা দেয়া হয়। কোন স্থানে লতিফ বিশ্বাস মিটিং ডাকলে রেজা তার সর্মথকদের দিয়ে সেখানে পাল্টা মিটিং ডেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতো। এ অবস্থায় সরকারের বর্তমান মেয়াদে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হন। আর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন মজিদ মন্ডলের ছেলে আব্দুল মোমিন মন্ডল। তাই যুবলীগ নেতা রেজা হয়ে অপ্রতিরোধ্য। প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে রেজা বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে তৃণমুলের ভোটে জয়ীও হন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি মোহাম্মদ আলী আকন্দকে পুনরায় মনোনয়ন দেন। এরপর রেজা তার আপন বড়ভাই ছাত্রদলের সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম সাজেদুলকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করান। এখানে বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেনের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলামও নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটের মাঠে ভাইকে জেতাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় রেজা। নির্বাচনে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম সাজেদুল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। এ অবস্থায় বর্তমান এমপি নিজের ঘরনার, আপন ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান আর নিজে যুবলীগের আহবায়ক হওয়ায় বেলকুচির রাজনীতির নিয়ন্ত্রন এখন রেজা’র হাতে। তাইতো নিজের দেয়া তালিকায় ধান সংগ্রহ করতে অশোভন আচরণ করে ইউএনওকে চাপ দিচ্ছিলেন রেজা। কিন্তু বিধিবাম ইউএনও মামলা করায় দলবল নিয়ে রেজাকে এখন পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

২৫-০৫-২০১৯ ০২:২০ অপরাহ্ন প্রকাশিত
http://sirajganjkantho.com/cnews/newsdetails/20190525142029.html
© সিরাজগঞ্জ কন্ঠ, ২০১৬     ||     A Flashraj IT Initiative